নাটোরের গুরুদাসপুরে বিলচলন সামসুজ্জোহা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষকে অবরুদ্ধ করে মানববন্ধন করেছে কলেজ শাখা ছাত্রদল।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকালে অধ্যক্ষের কক্ষের সামনে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। কলেজ ছাত্র সংসদের সভাপতি তোহা রহমান এতে নেতৃত্ব দেন।
মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা অধ্যক্ষ মো. একরামুল হকের বিরুদ্ধে কলেজের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম, শিক্ষকদের বেতন আটকে রাখা এবং ছাত্রাবাস ব্যবস্থাপনায় অনিয়মসহ বিভিন্ন অভিযোগ তোলেন।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, কলেজের উন্নয়নের কথা বলে ফিক্সড ডিপোজিটের ২৫ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। এ ছাড়া এইচএসসি শিক্ষার্থীদের আনন্দভ্রমণ, আলোকসজ্জা ও শিক্ষাসফরের নামে লাখ লাখ টাকা উত্তোলন করা হলেও ভাউচার সর্বস্ব বিল দেখিয়ে নামমাত্র অর্থ ব্যয় করে বাকি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের পক্ষে কর্মসূচিতে কোনো নথি বা প্রমাণ উপস্থাপনের কথা জানা যায়নি।
শিক্ষার্থীরা আরও অভিযোগ করেন, অনৈতিক সুবিধা আদায়ের উদ্দেশ্যে ছয়জন শিক্ষকের বেতন আটকে রাখা হয়েছে। কলেজের শহীদ মিনারও দীর্ঘদিন অবহেলিত। জাতীয় দিবসগুলোতে সেখানে আলোকসজ্জা করা হয় না। ছাত্রাবাসে আবাসিক শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে তিন মাসের টাকা অগ্রিম নেওয়া হলেও অনেক শিক্ষার্থীকে আবাসিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত রাখা হয়েছে।
তাদের দাবি, বিভিন্ন সময়ে এসব অনিয়মের প্রতিবাদ করার উদ্যোগ নেওয়া হলে প্রতিবাদকারী শিক্ষার্থীদের কলেজ থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে। এর প্রতিবাদেই শিক্ষার্থীরা জোটবদ্ধ হয়ে এ মানববন্ধনের আয়োজন করেন।
কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন কলেজ ছাত্র সংসদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কৌশিক আহমেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক ওমর ফারুক, সহ-সভাপতি রাতুল ইসলামসহ অন্যরা।
আয়োজকদের দাবি, কর্মসূচিতে ২০ থেকে ২৫ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন।
অভিযোগের বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষ মো. একরামুল হক বলেন, ‘‘বিধি মেনেই কলেজ পরিচালনা এবং আয়-ব্যয়ের হিসাব করা হয়। এখানে কোনো অনিয়মের সুযোগ নেই।’’
তিনি জানান, ‘অনৈতিক সুবিধা’ আদায় করতে না পেরে কতিপয় শিক্ষার্থী তার বিরুদ্ধে বিষোদ্গারে নেমেছেন।
অভিযোগগুলো সঠিক নয় দাবি করে অধ্যক্ষ আরও বলেন, ‘‘কলেজের আর্থিক কার্যক্রম নিয়ম অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে এবং প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই করা যেতে পারে।’’


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









