‘বন্দে মাতরম’ নিয়ে চলমান বিতর্ক এবার গড়াল বলিউডের দুই প্রজন্মের দুই অভিনেত্রীর বক্তব্যে। বর্ষীয়ান অভিনেত্রী শর্মিলা ঠাকুরের মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় কঙ্গনা রানাউত বলেছেন, ‘‘শিল্প ও কবিতাকে শুধু ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে তার অন্তর্নিহিত অর্থ সীমিত হয়ে যায়।’’ শর্মিলাকে ‘হিন্দু-মুসলিম মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসার’ আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি।
সম্প্রতি সংবাদ সংস্থা আইএএনএসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শর্মিলা ঠাকুর বলেছিলেন, ‘‘ভারতের সব ধর্মের মানুষের কথা বিবেচনা করলে ‘বন্দে মাতরম’-এর প্রথম দুটি স্তবক গাওয়া যেতে পারে।’’
তার যুক্তি, পরের অংশগুলোতে কালী ও দুর্গার মতো দেবীর উল্লেখ থাকায় একেশ্বরবাদী ধর্মাবলম্বীদের একটি অংশ অস্বস্তি বোধ করতে পারেন।
শর্মিলার এই বক্তব্যেই বিস্ময় প্রকাশ করেছেন কঙ্গনা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে কঙ্গনা বলেন, ‘‘শর্মিলা তার আপত্তির কথা জানিয়েছেন—এটাকে তিনি স্বাগত জানান। তবে একজন শিল্পী হিসেবে শর্মিলার শিল্প ও কবিতা সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গি তাকে বিস্মিত করেছে।’’
কঙ্গনার মতে, কবিতা ও গানে ব্যবহৃত শব্দ অনেক সময় রূপক অর্থ বহন করে। শিল্পীরা কোনো ভাবনা প্রকাশ করতে নানা ধরনের কল্পনা, উপমা ও প্রতীকের আশ্রয় নেন। তাই ‘বন্দে মাতরম’-কে শুধু ধর্মীয় আচার হিসেবে দেখলে এর বৃহত্তর তাৎপর্যকে ছোট করে দেখা হয়।
তিনি জানান, ‘বন্দে মাতরম’ ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের চেতনার সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রচনায় শক্তির যে ধারণা এসেছে, সেটিকে কঙ্গনা জাতীয় জাগরণের প্রতীক হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। স্বামী বিবেকানন্দের ‘শক্তি জাগরণের’ আহ্বানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘‘সেখানে ‘শক্তি’ শব্দটি কোনো আবহাওয়ার পূর্বাভাস নয়, বরং মানুষের অন্তর্নিহিত শক্তিকে জাগিয়ে তোলার প্রতীক হিসেবে এসেছে।’’
এরপরই শর্মিলাকে উদ্দেশ করে কঙ্গনা বলেন, “হিন্দু-মুসলিম মানসিকতার বাইরে আসুন।”
এদিকে, শর্মিলা ঠাকুর তার বক্তব্যে মূলত অন্তর্ভুক্তির প্রশ্নটি সামনে এনেছেন। তার মতে, ভারতের বিভিন্ন ধর্মের মানুষের কথা বিবেচনায় নিয়ে ‘বন্দে মাতরম’-এর প্রথম দুটি স্তবক গাওয়া হলে তা সবার জন্য গ্রহণযোগ্য হতে পারে।
তিনি যুক্তি দেন, অনেক মানুষ এক ঈশ্বরে বিশ্বাস করেন। ফলে পরবর্তী স্তবকে বিভিন্ন দেবীর উল্লেখ থাকা তাদের জন্য অস্বস্তিকর হতে পারে।
শর্মিলার বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল—জাতীয় সংগীত বা দেশাত্মবোধক গান হিসেবে ‘বন্দে মাতরম’কে এমনভাবে পরিবেশন করা উচিত, যাতে বিভিন্ন ধর্মীয় বিশ্বাসের মানুষ নিজেদের এর সঙ্গে একাত্ম মনে করতে পারেন।
সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









