বর্ষা নয়, সামান্য বৃষ্টিতেই পানিতে টইটম্বুর হয়ে পড়ে সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার বিছনাকান্দি ইউনিয়নের ‘ভিতরগুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়’। বিদ্যালয় মাঠ ও সামনের অংশ জলমগ্ন হয়ে পড়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছে আশপাশের ৪টি গ্রামের ৩১০ জন শিক্ষার্থী। মূলত অপরিকল্পিত রাস্তা নির্মাণ ও পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না রাখায় এই কৃত্রিম জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
সরেজমিনে জানা যায়, কয়েক মাস আগে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ থেকে বিদ্যালয়ের পাশ্ববর্তী কাঁচা রাস্তায় মাটি ভরাট করা হয়। কিন্তু মাটি ভরাটের সময় পানি নিষ্কাশনের জন্য কোনো ড্রেন বা কালভার্টের ব্যবস্থা রাখা হয়নি। ফলে সামান্য বৃষ্টি হলেই চারপাশের পানি এসে স্কুল মাঠে জমে থাকে। পানি নামার কোনো পথ না থাকায় মাঠ পেরিয়ে সেই পানি অনেক সময় বারান্দা পর্যন্ত চলে আসে।
বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থী নাদিয়া আক্তার তার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলে, একটু বৃষ্টি হইলেই আমাদের স্কুলে আসার রাস্তা আর মাঠ পানিতে ডুইবা যায়। নোংরা পানি মাড়াইয়া ক্লাসে যাইতে হয়। জামাকাপড় ভিজা যায়, অনেক সময় বইখাতাও ভিইজা নষ্ট হয়। মাঠে আমরা খেলতেও পারি না। আমরা এই কষ্টের সমাধান চাই।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সালাহউদ্দিন সরকার বলেন, আশপাশের ৪টি গ্রামের ৩১০ জন শিক্ষার্থী এই বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে। কোমলমতি এই শিশুদের জন্য বিদ্যালয় এখন আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই পুরো মাঠ তলিয়ে থাকে। কিছুদিন আগে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে পাশের রাস্তায় মাটি কাটার পর থেকেই এই জলবদ্ধতা তীব্র হয়েছে। মাঠটিতে মাটি ভরাট করে পানি নিষ্কাশনের ড্রেন বা কালভার্ট করে দিলেই এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব। আমরা দ্রুত এর প্রতিকার চাচ্ছি।
বিষয়টি নিয়ে যোগাযোগ করা হলে উপজেলা শিক্ষা অফিসার ইফতেখার হোসেন ভূইয়া বলেন, ভিতরগুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জলাবদ্ধতার বিষয়টি আমরা অবগত হয়েছি। প্রধান শিক্ষকের মাধ্যমে বিস্তারিত প্রতিবেদন চাওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পরিবেশ নিশ্চিত করতে এবং এই ভোগান্তি দূর করতে আমরা দ্রুত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
বিছনাকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক বদরুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীদের যাতায়াত ও পড়ালেখার পরিবেশ নির্বিঘ্ন করতে আমরা কাজ করছি। বিদ্যালয় ও রাস্তার সমস্যার বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। দ্রুত সরেজমিন পরিদর্শন করে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি লাঘব এবং প্রয়োজনীয় সংস্কারে সব ধরনের কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ব্যাপারে গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রতন কুমার অধিকারী বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি জনভোগান্তি যাতে না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখা জরুরি। দ্রুত খোঁজ নিয়ে বিদ্যালয় মাঠ থেকে পানি নিষ্কাশনের জন্য অবিলম্বে ড্রেনেজ ব্যবস্থা বা কালভার্ট নির্মাণের পদক্ষেপ নেওয়া হবে, যাতে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত না হয়।
৩১০ জন শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ ও সুরক্ষার কথা চিন্তা করে কালক্ষেপণ না করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই সমস্যার সমাধান চান শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয় অবিভাবকরা।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









