বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে হবিগঞ্জ সদর উপজেলার কালীগঞ্জ এলাকায় খোয়াই নদীর বাঁধ আবারও ভেঙে গেছে। বাঁধের ভাঙা অংশ দিয়ে পানি প্রবেশ করে আশপাশের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে শুরু করে। এতে অনেক বসতঘরে পানি ঢুকে পড়েছে। পানিবন্দি হয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
রবিবার (২৩ আগস্ট) সকালে খোয়াই নদীর বাঁধ আবারও ভেঙে পানি প্রবেশ করে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়।
হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সায়েদুর রহমান জানান, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে খোয়াই নদীর পানি বাল্লা পয়েন্টে বিপৎসীমার ১৩০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর ফলে কালীগঞ্জে আগে ভেঙে যাওয়া স্থানে মেরামত করা অংশে আবারও ভাঙন দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, ৯ জুলাই পাহাড়ি ঢলে একই এলাকায় খোয়াই নদীর বাঁধ ভেঙে যায়। এতে দ্রুত আশপাশের গ্রামগুলোতে পানি ঢুকে পড়ে এবং অন্তত ২০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছিল। পরে বাঁধ মেরামতের জন্য সরকার ৮৮ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়। তবে কাজ ধীরগতিতে চলায় সময়মতো সংস্কার শেষ হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এর মধ্যেই নতুন করে ভাঙন দেখা দেওয়ায় আতঙ্ক বাড়ছে।

পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় নিম্নাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা তলিয়ে গেছে। প্লাবিত এলাকায় অনেক কাঁচা সড়ক পানির নিচে চলে যাওয়ায় মানুষের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। অনেকের বসতঘরে পানি ঢুকে পড়ায় দেখা দিয়েছে চরম দুর্ভোগ।
এদিকে খোয়াই নদীর বাঁধ মেরামতের কাজ পরিদর্শন করেছেন হবিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও হুইপ আলহাজ্ব জিকে গউছ। রবিবার সকালে হবিগঞ্জ সদর উপজেলার লস্করপুর এলাকায় ভেঙে যাওয়া বাঁধের মেরামতকাজ পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শনের সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক ড. জিএম সরফরাজ, পুলিশ সুপার তারেক মাহমুদ, হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সায়েদুর রহমান, হবিগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আবু জাহের, হবিগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল হকসহ এলাকাবাসী।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









