“বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বরিশাল জেলা প্রশাসন ও সামাজিক বন বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬-এর সফল সমাপনী অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার (২৩ আগস্ট) বিকেলে বরিশাল শহরের বেলস্ পার্ক মাঠে অনুষ্ঠিত এই সমাপনী আয়োজনে প্রায় অর্ধকোটি টাকার চারা ও আনুষঙ্গিক সামগ্রী বিক্রি হয়েছে বলে আয়োজক সূত্রে জানা গেছে।
সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মো. আহসান হাবিব। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সালমা পারভীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম। এ সময় সরকারি বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, গণমাধ্যমকর্মী ও শিক্ষার্থীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকার আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষ রোপণের লক্ষ্যমাত্রা গ্রহণ করেছে। আমাদের দেশে সীমিত ভূমিতে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ব্যাপকভাবে গাছ লাগানো জরুরি। বিশেষ করে উপকূলীয় অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড় ও বজ্রপাত প্রতিরোধে তাল ও খেজুর গাছ রোপণে বাড়তি গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বাজার বর্তমানে বিদেশী ফলে সয়লাব হলেও আমলকী, পেয়ারা, আম, কাঁঠাল ও আমড়ার মতো দেশীয় ফলগুলোতে বিপুল পুষ্টিগুণ রয়েছে। নতুন প্রজন্মকে এসব দেশীয় ফল খাওয়ায় উৎসাহিত করতে হবে। এছাড়া, জাতীয় ফল কাঁঠাল প্রক্রিয়াজাত করে বিদেশে রপ্তানির সুযোগ সৃষ্টিতে কৃষি গবেষণা ও যান্ত্রিকীকরণের জোর তাগিদ দেন তিনি।
সমাপনী অনুষ্ঠানে বৃক্ষমেলায় অংশ নেওয়া নার্সারি মালিকদের মধ্য থেকে সেরা তিন প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কৃত করা হয়। বরিশাল সদরের ‘বৃক্ষকুঞ্জ’ প্রথম, ‘মরিয়ম নার্সারি’ দ্বিতীয় এবং ‘ক্যাকটাস ভ্যালী’ তৃতীয় স্থান অর্জন করে।
এ ছাড়া বৃক্ষরোপণ ও বৃক্ষমেলা উপলক্ষে আয়োজিত চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে ক্রেস্ট ও সনদপত্র তুলে দেন প্রধান অতিথি।
আয়োজকেরা জানান, পরিবেশ রক্ষা, বৃক্ষরোপণে জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা লাগানোর আগ্রহ বাড়ানোই ছিল এ মেলার অন্যতম উদ্দেশ্য। মেলায় মানুষের ব্যাপক অংশগ্রহণ সেই উদ্যোগকে আরও উৎসাহিত করেছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









