বগুড়ার সদর উপজেলার নুনগোলা ইউনিয়নের সাবেক দুইবারের নির্বাচিত ইউপি সদস্য সাইফুল ইসলামকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। রবিবার (২৩ আগস্ট) রাত ১১টার দিকে নুনগোলা ইউনিয়নের বাঘোপাড়া ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত সাইফুল ইসলাম (৫৫) আশোকোলা পূর্বপাড়া এলাকার মৃত আবেদ আলী মণ্ডলের ছেলে।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, রবিবার রাতে সাইফুল ইসলাম বাঘোপাড়া বন্দর মোড় এলাকায় চা পান করতে যান। পরে বাড়ি ফেরার পথে বাঘোপাড়া ব্রিজের কাছে পৌঁছালে কয়েকজন তাঁর পথরোধ করেন। এ সময় তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করার চেষ্টা করা হলেও ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয় বলে স্থানীয়রা জানান।
প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনায় হামলার ঘটনা
হামলার সময় সাইফুল ইসলামের সঙ্গে তাঁর মুরগির ফার্মের এক কর্মচারী ছিলেন বলে জানা গেছে। প্রত্যক্ষদর্শী ওই কর্মচারীর দাবি, রাকিব, রমজান ও নিঝুম—এই তিনজন তাদের পথরোধ করে সাইফুলকে মোটরসাইকেল থেকে নামিয়ে রাস্তার মাঝামাঝি স্থানে নিয়ে যান। এরপর তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপানো হয় বলে দাবি করেন তিনি।
ওই কর্মচারী আরও বলেন, হামলার সময় তাঁকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। তাঁর ভাষ্য, হামলাকারীরা তাঁকে বলেন, ‘তুই যদি আমাদের নাম বলিস, তাহলে তোকেও শেষ করে দেব।’ এরপর তাঁকেও আক্রমণের উদ্দেশ্যে এগিয়ে এলে তিনি দৌড়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান বলে দাবি করেন।
নিরাপত্তাহীনতার কথা জানিয়ে ওই কর্মচারী বলেন, তিনি এতিম; তাঁর বাবা-মা কেউ নেই। হামলাকারীদের ভয় দেখিয়ে তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে নিজের নিরাপত্তার দাবি জানিয়েছেন।
সালিশ-দরবার নিয়ে পুরোনো বিরোধ?
নিহত সাইফুল ইসলামের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তিনি নুনগোলা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য হিসেবে দুই মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেছেন। এলাকায় বিভিন্ন বিরোধ ও পারিবারিক সমস্যায় তিনি সালিশ-দরবার করতেন।
স্বজনদের দাবি, বিভিন্ন মানুষের বিরোধ মীমাংসার পাশাপাশি তিনি অনেকের পারিবারিক দ্বন্দ্বেও সালিশ করেছেন। এসব সালিশকে কেন্দ্র করে কারও সঙ্গে তাঁর বিরোধ বা শত্রুতা তৈরি হয়েছিল কি না, হত্যাকাণ্ডের তদন্তে সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন তাঁরা।
নিহতের স্বজনদের ধারণা, পূর্ববিরোধের জের ধরে পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়ে থাকতে পারে। তবে সালিশ-দরবারই হত্যার কারণ কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। হত্যার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষা করতে হবে।
পুলিশের হাতে আলামত
বগুড়া সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইব্রাহিম আলী বলেন, হত্যাকাণ্ডের কিছু আলামত পাওয়া গেছে। সেগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের চেষ্টা চলছে। তদন্ত শেষে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় রাকিব, রমজান ও নিঝুমের নাম প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্যে উঠে এলেও তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হবে।
একজন সাবেক জনপ্রতিনিধি হিসেবে সাইফুল ইসলামের বিভিন্ন সামাজিক বিরোধে সালিশ-দরবারে সম্পৃক্ততা, স্থানীয় বিরোধ, ব্যক্তিগত শত্রুতা এবং হত্যার আগে-পরে তাঁর চলাফেরাসহ বিভিন্ন বিষয় এখন তদন্তের আওতায় আসার দাবি উঠেছে।
সব মিলিয়ে প্রশ্ন উঠেছে—সাইফুলের সামাজিকভাবে বিরোধ মীমাংসার ভূমিকা কি শেষ পর্যন্ত তাঁর জন্য প্রাণঘাতী হয়ে উঠেছিল, নাকি হত্যার পেছনে রয়েছে অন্য কোনো কারণ?
এই প্রশ্নের উত্তর মিলবে পুলিশের তদন্তেই। তবে প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য এবং ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া আলামত হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









