পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার গুয়ারেখা ইউনিয়নের চাঁদকাঠি গ্রামে সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে তার বাবা আব্দুল আজিজকে আটক করে স্থানীয়রা। পরে পুলিশের কাছে হস্তান্তরের প্রস্তুতির মধ্যে তাকে একটি ঘরে তালাবদ্ধ করে রাখা হলেও সকালে জানালা ভেঙে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
রবিবার (২৩ আগস্ট) রাতে দীর্ঘদিন পালিয়ে থাকার পরে তার বাড়িতে ফেরার পর স্থানীয়রা আব্দুল আজিজকে আটক করেন।
স্থানীয়দের দাবি, তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করার জন্য জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করা হলেও পুলিশ ঘটনাস্থলে না আসায় তাকে বাড়ির একটি কক্ষে তালাবদ্ধ করে রাখা হয়। পরদিন সকালে স্থানীয়রা সেখানে গিয়ে দেখতে পান, জানালা ভেঙে তিনি পালিয়ে গেছেন।
এর আগে গত ১১ জুন আব্দুল আজিজের বিরুদ্ধে তার নিজ কন্যাকে যৌন নির্যাতনের গুরুতর অভিযোগ ওঠে। স্থানীয় এগারোগ্রাম সম্মিলনী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণিতে পড়ুয়া ওই ছাত্রীর আল্ট্রাসনোগ্রাম পরীক্ষায় প্রায় তিন মাসের গর্ভধারণের বিষয়টি ধরা পড়ে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রায় এক মাস ধরে ওই ছাত্রী শারীরিক অসুস্থতা বোধ করছিল। শারীরিক পরিবর্তন দেখে প্রতিবেশীদের সন্দেহ হলে আব্দুল কাদের ও রেবেকা সুলতানা তাকে গোপনে নেছারাবাদ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। চিকিৎসকের পরামর্শে আল্ট্রাসনোগ্রাম করানো হলে গর্ভধারণের বিষয়টি জানা যায়।
স্থানীয়রা জানান, ওই ছাত্রীর মা না থাকায় সে বাবার সঙ্গে একই বাড়িতে বসবাস করত। মেয়েটির ভাষ্য উদ্ধৃত করে স্থানীয়রা জানান, বিভিন্ন সময়ে তার বাবা তাকে ঘুমের ওষুধ খাওয়াতেন এবং অচেতন অবস্থায় যৌন নির্যাতন করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি কাউকে জানালে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হতো বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর আব্দুল আজিজ প্রথমে অভিযোগ অস্বীকার করার চেষ্টা করেন। পরে স্থানীয়রা তার বাড়িতে গেলে তিনি পালিয়ে যান। এরপর থেকে তিনি দীর্ঘদিন এলাকায় ছিলেন না।
স্থানীয় বাসিন্দা সুদর্শন বড়াল বলেন, রোববার (২৩ আগস্ট) রাতে আব্দুল আজিজ এলাকায় ফিরে আসার খবর পেয়ে তারা তার বাড়ি ঘেরাও করে তাকে আটক করেন। আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করতে ৯৯৯-এ ফোন করা হলেও পুলিশ না আসায় তাকে ঘরে তালাবদ্ধ করে রাখা হয়। সকালে গিয়ে দেখা যায়, জানালা ভেঙে তিনি পালিয়ে গেছেন।
স্থানীয় হিরন মিয়া বলেন, স্কুলছাত্রী মেয়েকে নির্যাতনের অভিযোগে আজিজুল ইসলামের বিরুদ্ধে এলাকায় ক্ষোভ তৈরি হয়। রাতের দিকে স্থানীয়রা তাকে আটক করে পুলিশের অপেক্ষায় ছিলেন। পুলিশ না আসায় তাকে ঘরে তালাবদ্ধ করে রাখা হয়। সকালে তিনি পেছনের জানালা ভেঙে পালিয়ে যান।
এ বিষয়ে নেছারাবাদের পার্টিকেলবাড়ি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ বিশ্বজিৎ বর্মন বলেন, স্থানীয়দের একজনকে আটকের বিষয়টি তিনি শুনেছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ না পাওয়ায় ঘটনাস্থলে যাওয়া হয়নি। তবে জানালা ভেঙে পালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি তিনি জানেন না।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









