একই বিদ্যালয়, একই মাঠ, একই সময়—তবু দৃশ্য ছিল দুই রকম। একপাশে রান্নার ধোঁয়া, আনন্দ-উল্লাস আর চড়ুইভাতির উৎসব। অন্যপাশে নীরব দৃষ্টিতে সবকিছু দেখছিল শিক্ষার্থীরা, যারা অর্থের অভাবে ওই আয়োজনে অংশ নিতে পারেনি।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার নিজবলাইল উচ্চ বিদ্যালয়ে বিদ্যালয় চলাকালীন সময়ে অনুষ্ঠিত চড়ুইভাতিকে কেন্দ্র করে সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, নির্ধারিত চাঁদা দিতে না পারায় অনেক দরিদ্র শিক্ষার্থী এই আয়োজনে অংশ নিতে পারেনি।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটিতে মোট শিক্ষার্থী ২৮২ জন হলেও চড়ুইভাতিতে অংশ নেয় মাত্র ১১০ জন। স্কুল মাঠেই রান্না ও আনন্দ-উৎসব চললেও বাকি শিক্ষার্থীরা দূর থেকে সেই আয়োজন দেখেছে। বিষয়টি নিয়ে অভিভাবক, স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন মহল ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
তাদের দাবি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি কার্যক্রমে সব শিক্ষার্থীর সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। অর্থের অভাবে কোনো শিক্ষার্থীকে বাদ দেওয়া বৈষম্যমূলক এবং এতে তাদের মধ্যে হীনমন্যতা তৈরি হতে পারে।
এ ঘটনায় আরও প্রশ্ন উঠেছে, বিদ্যালয় চলাকালীন সময়ে পাঠদান বন্ধ রেখে এমন আয়োজনের অনুমতি কীভাবে দেওয়া হলো। যদি এটি বিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম হয়ে থাকে, তাহলে কেন সব শিক্ষার্থীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি? আর যদি এটি ব্যক্তিগত উদ্যোগ হয়, তবে বিদ্যালয়ের মাঠ ব্যবহারের অনুমতি কেন দেওয়া হলো?
স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে জনপ্রতি ২০০ টাকা করে চাঁদা নেওয়া হয়। আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে অনেক শিক্ষার্থী সেই টাকা দিতে না পারায় তারা চড়ুইভাতিতে অংশ নিতে পারেনি।
নিজবলাইল উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ফরিদা পারভীন বলেন, ‘প্রাইম মিনিস্টার গোল্ডকাপ টুর্নামেন্ট শেষে শিক্ষার্থীদের সম্মতিতেই এ আয়োজন করা হয়েছে। সবাই তো স্কুলে আসেনি। সবাইকে আমার ব্যক্তিগত টাকায় খাওয়ানো সম্ভব নয়।’
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সঞ্জয় কুমার পাল বলেন, ‘এভাবে কোনো আয়োজনের বিধান নেই। দরিদ্র শিক্ষার্থীরা চাঁদা দিতে না পারলেও তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা উচিত ছিল। তাদের বঞ্চিত করা ঠিক হয়নি।’
এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সাথে পরামর্শ করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও জানান এই কর্মকর্তা।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









