সিলেটের শ্রীমঙ্গলে ধরা পড়ল কেয়ারটেকার রাজু ও সহযোগী জিতুল, ফুলবাড়ীয়ায় ট্রাভেল ব্যাগে পাওয়া ১৫ খণ্ড মরদেহের রহস্য উদ্ঘাটন।
ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়ায় চাঞ্চল্যকর ও লোমহর্ষক আবু রায়হান তালুকদার (৪২) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করেছে জেলা পুলিশ। চার বছর ধরে বিশ্বস্ত কেয়ারটেকার হিসেবে কাজ করা মোঃ রাজু মির্জা ও তার সহযোগী মো. সোহেল মির্জা ওরফে জিতুলকে শ্রীমঙ্গল থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশের দাবি, দুধের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করার পর রড দিয়ে পিটিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয় গৃহকর্তা আবু রায়হানকে। এরপর মরদেহ ১৫ খণ্ড করে তিনটি ট্রাভেল ব্যাগে ভরে ডোবায় ফেলে দেওয়া হয়।
গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের কাছ থেকে হত্যায় ব্যবহৃত লোহার রড, চাপাতি, চাকুসহ অন্যান্য আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) পুলিশ ও মামলার বিবরণ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ জুলাই বিকাল আনুমানিক ৫টার দিকে ফুলবাড়ীয়া থানার কাহালগাঁও এলাকা থেকে নিখোঁজ হন আবু রায়হান তালুকদার।
এ ঘটনায় ২৭ জুলাই পরিবার থেকে ফুলবাড়ীয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়। জিডির তদন্ত চলাকালে গত ২ আগস্ট বেলা আড়াইটার দিকে নিখোঁজের বাড়ির মাত্র ৩০০ গজ পূর্বে একটি পরিত্যক্ত ডোবার পানির ঝোপ থেকে তিনটি ট্রাভেল ব্যাগে রাখা অবস্থায় মানবদেহের খণ্ডিত ১৫টি অংশ উদ্ধার করে পুলিশ।
পরিবারের সদস্যরা পোশাক ও মরদেহের দৃশ্যমান অংশ দেখে সেটি আবু রায়হানের মরদেহ বলে নিশ্চিত করেন। পরদিন ৪ আগস্ট ফুলবাড়ীয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ফুলবাড়ীয়া থানার সাব-ইনস্পেক্টর (নিরস্ত্র) শুভ্র সাহার নেতৃত্বে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় এবং সোর্সের তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনার সঙ্গে জড়িত রাজু ও জিতুলের নাম উঠে আসে।
পুলিশ জানায়, প্রধান অভিযুক্ত রাজু মির্জা (২২) সোয়াইতপুর গ্রামের ফজলুল হক মির্জার ছেলে এবং তার সহযোগী সোহেল মির্জা ওরফে জিতুল (২০) অনন্তপুর গ্রামের সুরুজ মির্জার ছেলে। ঘটনার পর তারা আত্মগোপনে চলে গেলে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে অভিযান চালায় পুলিশ।
গত ২৬ আগস্ট রাত ১টা ৫০ মিনিটে শ্রীমঙ্গল রেলওয়ে স্টেশন এলাকা থেকে শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশের সহায়তায় তাদের দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তাররা হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা ও নৃশংসতার কথা স্বীকার করেছে বলে জানায় জেলা পুলিশ। জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো আব্দুল্লাহ আল মামুন জানায়, আসামির হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছে। ঘটনার রাতে রাজু কৌশলে আবু রায়হানকে দুধের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করে এবং পরে রড দিয়ে আঘাত করে হত্যা করে। এরপর মরদেহ গোপন করতে দেহটি কেটে ১৫ খণ্ড করে তিনটি ট্রাভেল ব্যাগে ভরে পার্শ্ববর্তী ডোবায় ফেলে আসা হয়। অপরাধের আলামত নষ্ট করতে ডিটারজেন্ট পাউডার, হারপিক ও হ্যান্ডওয়াশ দিয়ে পুরো ঘর ও বাথরুম পরিষ্কার করা হয়। এমনকি ভিকটিমের নিখোঁজ থাকা অবস্থায় তার মোবাইল ও ব্যাংক কার্ড ব্যবহার করে টাকাও উত্তোলন করে তারা। আসামিদের দেওয়া তথ্যে পুলিশ হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্রসমূহ উদ্ধার করে। আসামিদের আদালতে সোপর্দ করে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ডের আবেদন জানানো হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা পুলিশ।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









