পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কেশবপুর ইউনিয়নের মমিনপুরের লালচরে রহস্যজনকভাবে তিনটি মহিষ মারা গেছে। একই ঘটনায় অসুস্থ হয়ে পড়েছে আরও অন্তত ৩০টি মহিষ।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিকেলে চরে মহিষ চরাতে নিয়ে যাওয়ার পর এ ঘটনা ঘটে। মারা যাওয়া মহিষগুলোর মালিক রফিজ মৃধা, সুমন মাঝি ও রুহুল আমিন বলে জানা গেছে।
স্থানীয়রা জানান, লালচরে দীর্ঘদিন ধরে প্রায় ৫০০ মহিষ উন্মুক্তভাবে চরানো হয়। শুক্রবারও প্রতিদিনের মতো রাখালেরা মহিষগুলোকে চরে নিয়ে যান। কিছুক্ষণ ঘাস খাওয়ার পর বেশ কয়েকটি মহিষ হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে। অনেক মহিষের মুখ দিয়ে লালা ঝরতে দেখা যায় এবং কয়েকটি পানিতে পড়ে যায়। পরে তিনটি মহিষ মারা যায়।
মহিষ মালিক মোস্তফা ফকির বলেন, তিনি কয়েক বছর ধরে লালচরে মহিষ পালন করছেন। এর আগে এমন ঘটনা কখনো ঘটেনি। তার দাবি, চাঁদাবাজি ও পূর্বশত্রুতার জের ধরে চরের পানিতে বিষ প্রয়োগের কারণে মহিষগুলো অসুস্থ হয়ে থাকতে পারে। তার নিজের ১৮টি মহিষসহ মোট ৩৩টি মহিষ অসুস্থ হয়েছে এবং এর মধ্যে তিনটি মারা গেছে।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, সম্প্রতি লালচরে মহিষ চরানোর জন্য ছাত্রদলের সাবেক নেতা মাঈনউদ্দিনের পক্ষ থেকে মহিষপ্রতি ২০০ টাকা করে চাঁদা দাবি করা হয়। এ নিয়ে চরাঞ্চলের বাসিন্দারা শহরে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিলও করেন। এর কিছুদিন পরই মহিষ অসুস্থ ও মৃত্যুর ঘটনা ঘটায় বিষয়টি নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা চলছে। তবে পানিতে বিষ প্রয়োগের অভিযোগের সত্যতা এখনো নিশ্চিত হয়নি।
খবর পেয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে অসুস্থ মহিষগুলোর জরুরি চিকিৎসা দেন। উপসহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম জানান, গুরুতর অসুস্থ কয়েকটি মহিষকে ট্রলারে করে নিমদি ঘাটে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। মারা যাওয়া মহিষের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পাঠানো হবে। পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. শুভেন্দু সরকার খামারিদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে আপাতত লালচরে মহিষ না চরানোর নির্দেশ দিয়েছেন। তবে বিকল্প চারণভূমি না থাকায় এতে প্রায় ৫০০ মহিষের খাবার ও লালন-পালন নিয়ে বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় খামারিরা।
বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। খামারিদের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে বাউফলের সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের চর মিয়াজানে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি ঘটনাটি তদন্ত করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









