নারায়ণগঞ্জে ডেঙ্গু পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। জেলা সিভিল সার্জনের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় নতুন করে ৫০ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। একই সময়ে হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হয়েছেন ৫০ জন এবং চিকিৎসা শেষে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৫২ জন। এর মধ্যে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা নিতে এসে নানা ভোগান্তির অভিযোগ উঠেছে।
জায়গা সংকটের কারণে হাসপাতালের ডেঙ্গু ওয়ার্ডের সামনের খোলা জায়গায় বিছানা পেতে কয়েকজন রোগীকে চিকিৎসা নিতে দেখা গেছে। সেখানে পর্যাপ্ত ফ্যান ও মশারি না থাকায় গরম ও মশার উৎপাতেও দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন রোগী ও স্বজনেরা।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের ডেঙ্গু ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, ওয়ার্ডের ভেতরে রোগীদের পাশাপাশি সামনের খোলা জায়গাতেও কয়েকটি বিছানা রাখা হয়েছে। সেখানে চিকিৎসাধীন রোগীদের জন্য পর্যাপ্ত ফ্যান ও মশারির ব্যবস্থা দেখা যায়নি।
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মুক্তার হোসেন চার দিন আগে তাঁর শাশুড়িকে হাসপাতালে ভর্তি করেছেন। তিনি বলেন, ‘‘রোগীর সঙ্গে এলে এখানে রোগী হতে হয়। চার দিন আগে শাশুড়িকে ভর্তি করেছি। এখন একটু সুস্থ আছেন।’’
সিদ্ধিরগঞ্জের ২নং ঢাকেশ্বরী এলাকার বাসিন্দা গিয়াস উদ্দিন দুই দিন আগে তার ১৮ বছর বয়সী ছেলেকে ডেঙ্গু ওয়ার্ডে ভর্তি করেন। বৃহস্পতিবার তার ছেলেকে ঢাকার ডিএনসিসি হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলা হয়েছে বলে জানিয়ে গিয়াস উদ্দিন বলেন, ‘‘দুই দিন আগে ছেলেকে এখানে ভর্তি করি। কিন্তু আজ এখান থেকে রেফার করে ডিএনসিসিতে নিয়ে যেতে বলা হচ্ছে। এখন কী করি? ঢাকায় গেলে কত টাকা লাগবে, এত টাকা পাই কোথায়? এখানেই তো এই চিকিৎসা দেওয়া যায়।’’
স্যালাইন নিয়ে অভিযোগ
হাসপাতালে ভর্তি কয়েকজন রোগী ও স্বজন সরকারি স্যালাইন না থাকার অভিযোগ করেছেন। তাদের দাবি, সরকারি স্যালাইন না থাকার কথা বলে ডেঙ্গু রোগীদের কাছ থেকে ৯৫০ টাকা নিয়ে স্যালাইন দেওয়া হচ্ছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
পুরুষ ডেঙ্গু ওয়ার্ডে ভর্তি ১৮ বছর বয়সী মো. রিফাত বলেন, ‘‘চিকিৎসা মোটামুটি ভালো দেওয়া হলেও সময়মতো নার্স ও চিকিৎসকদের পাওয়া যায় না।’’ নার্সরাও নিয়মিত রোগীদের খোঁজখবর নেন না বলে অভিযোগ করেন তিনি।
মশারি না থাকার বিষয়ে রিফাত বলেন, ‘‘এখানে অনেক গরম। তাই কেউ মশারি ব্যবহার করছে না। অনেকেই বাসা থেকে ফ্যান নিয়ে এসেছেন। যার যার মনে চায়, সে মশারি ব্যবহার করে।’’
হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ নিয়েও অভিযোগ করেন তিনি। রিফাত বলেন, ‘‘আমার চারটি পরীক্ষা হাসপাতালের বাইরে থেকে করতে হয়েছে। অথচ এখানে করার কথা ছিল এসব পরীক্ষা।’’
নারায়ণগঞ্জের জেলা সিভিল সার্জন ডা. এস এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘‘আমি এখানে নতুন যোগদান করেছি। ডেঙ্গু ওয়ার্ডে মশারি না থাকার বিষয়টি আগে অবগত ছিলাম না। বিষয়টি জানার পর এটি আমার নলেজে রইল। এখন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’
নারায়ণগঞ্জ জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য বলছে, সেপ্টেম্বরের প্রথম দুই দিনেই নারায়ণগঞ্জে ১০৫ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। চলতি বছরে মঙ্গলবার পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৩৭৪ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৫০ জন আক্রান্ত হওয়ায় বুধবার পর্যন্ত জেলায় মোট ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৪২৪ জনে। এ বছর এখন পর্যন্ত ১ হাজার ২৯৮ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন।
তবে শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকাল নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা হাসপাতালে রূপগঞ্জ উপজেলা ভূমি অফিসের কর্মচারী মো. আবু ছিদ্দিক ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা যান।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









