বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির ও শায়খুল হাদিস আল্লামা মামুনুল হক বলেছেন, বর্তমান সরকার গণভোটের রায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নে নানা টালবাহানা শুরু করেছে।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টার সময় বান্দরবানের লামা পৌর বাস টার্মিনাল প্রাঙ্গণে খেলাফত মজলিস দক্ষিণ জেলা শাখার উদ্যোগে আয়োজিত এক বিশাল নাগরিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
আল্লামা মামুনুল হক বলেন, ‘‘গত ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সালের সংসদ নির্বাচনে গণভোটে ৭০ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়যুক্ত হলেও, বর্তমান সরকার গণভোটের রায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নে নানা টালবাহানা শুরু করেছে। নতুন সরকার গঠন হওয়ার এই ৬ মাসে আমরা বিরোধী দল হিসেবে তাদের জনবিরোধী সব সিদ্ধান্তের সমালোচনা করছি, কারণ বর্তমান সরকার একটি বৈষম্যমূলক সরকারে পরিণত হয়েছে।’’
সরকারের সংস্কার ভাবনা ও গণভোটের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘‘একটি মায়ের দুই যমজ সন্তানকে যেভাবে আলাদা করা যায় না, ঠিক তেমনি সংসদ নির্বাচনকে বৈধ বলে গণভোটকে অবৈধ বলা যাবে না। যদি গণভোট অবৈধ হয়, তবে এই সংসদ নির্বাচনও অবৈধ হয়ে যাবে। দেশের মানুষ রক্তক্ষয়ী জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে নতুন সরকার এনেছিল প্রকৃত পরিবর্তনের আশায়, কিন্তু সরকার গঠনের আগেই তারা জনগণের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। এই সরকার সংবিধানের আমূল ‘সংস্কার’ না করে কেবল নিজেদের মতো 'সংশোধন' করতে চায়। কিন্তু আমরা সংশোধন নয়, সম্পূর্ণ রাষ্ট্র ব্যবস্থার বৈপ্লবিক সংস্কার চাই।’’
মাঠপর্যায়ের চলমান সংকটের চিত্র তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, ‘‘বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে দেশে তেল, বিদ্যুৎ ও সারের সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। অথচ সরকারের দায়িত্বশীল মন্ত্রীরা সংসদে বসে বুক উঁচিয়ে বলছেন দেশে কোনো ঘাটতি নেই। বাস্তবে মাঠপর্যায়ে কৃষকরা সার পাচ্ছেন না, দেশে বিদ্যুৎ ও গ্যাস নেই; ফলে জনজীবন পুরোপুরি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।’’
এ সময় বান্দরবান পার্বত্য শহরে খেলাফত মজলিসের সাংগঠনিক কার্যক্রম চাঙা করায় স্থানীয় নেতৃবৃন্দকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান তিনি।
বান্দরবান দক্ষিণ জেলা খেলাফত মজলিসের সভাপতি হাফেজ মাওলানা মোহাম্মদ তৈয়ব হোসেনের সভাপতিত্বে এবং কেন্দ্রীয় শুরা সদস্য ও জেলা সেক্রেটারি ডা. মাওলানা শফিকুর রহমানের সঞ্চালনায় সমাবেশে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আবু সাইদ নোমান এবং ১১ দলীয় জোটের নেতৃবৃন্দসহ স্থানীয় উলামায়ে কেরাম।
সমাবেশে বক্তারা ইসলামের মূলনীতির আলোকে একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ ও খেলাফত রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং সাধারণ জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
ব্যতিক্রমী ও বিশাল এই নাগরিক সমাবেশকে ঘিরে স্থানীয় সর্বস্তরের মানুষের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ করা গেছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









