পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নে ফ্যামিলি কার্ড তথ্য সংগ্রহকারী/ফিল্ড সুপারভাইজার পদে নিয়োগ নিয়ে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। পরীক্ষা না দিয়ে চূড়ান্ত তালিকায় নাম আসার অভিযোগ ওঠার পর নির্বাচিত প্রার্থী আবিদা তানজুম সংবাদ সম্মেলন করে অভিযোগটি মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর বলে দাবি করেছেন।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে স্বরূপকাঠী প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে আবিদা তানজুম বলেন, ‘‘নিয়ম মেনে নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছি এবং মেধার ভিত্তিতে উত্তীর্ণ হয়ে নির্বাচিত হয়েছি। আমি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছি, যা পরীক্ষাকেন্দ্রের সিসিটিভি ফুটেজে ধারণ করা আছে। আমার বিরুদ্ধে পরীক্ষা না দিয়ে নির্বাচিত হওয়ার যে অভিযোগ করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর।’’
তিনি আরও বলেন, ‘‘নিয়োগ প্রক্রিয়ায় তার কোনো অনিয়ম বা অনৈতিকভাবে সুযোগ নেওয়ার ঘটনা ঘটেনি।’’ বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার না করে সিসিটিভি ফুটেজসহ সংশ্লিষ্ট তথ্য যাচাই করার আহ্বান জানান তিনি।
এর আগে “সুপারভাইজার পদে পরীক্ষা ছাড়াই চূড়ান্ত তালিকায় নাম” শিরোনামে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। সেখানে অভিযোগ করা হয়, নেছারাবাদ উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড খানা তথ্যভান্ডার-২০২৬ প্রকল্পের নির্বাচিত ফিল্ড সুপারভাইজার পদে বলদিয়া ইউনিয়ন থেকে আবিদা তানজুমকে পরীক্ষা না দিয়েই চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করা হয়েছে।
এ অভিযোগের পর গত ২৪ আগস্ট নেছারাবাদ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত আবেদন করেন নিয়োগ প্রার্থী মো. নূর চৌধুরী ছাব্বির। আবেদনে তিনি নিজেকে ওই পদের একজন বৈধ প্রার্থী ও নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী হিসেবে উল্লেখ করেন।
লিখিত অভিযোগে ছাব্বির দাবি করেন, গত ১৭ আগস্ট ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত চূড়ান্ত ফলাফলে এমন একজন প্রার্থীকে নির্বাচিত করা হয়েছে, যিনি তার অভিযোগ অনুযায়ী পরীক্ষা চলাকালে পরীক্ষার হলে উপস্থিত ছিলেন না। ফলে পরীক্ষা না দেওয়া একজন প্রার্থী চূড়ান্ত তালিকায় স্থান পাওয়ায় প্রকৃত ও মেধাবী পরীক্ষার্থীরা বৈষম্য ও বঞ্চনার শিকার হয়েছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।
মো. নূর চৌধুরী ছাব্বির বলেন, ‘‘আমি নিজে বৈধ প্রার্থী হিসেবে নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছি। কিন্তু চূড়ান্ত ফলাফলে একজন অনুপস্থিত প্রার্থীকে নির্বাচিত করা হয়েছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। বিষয়টি সঠিকভাবে তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন। যদি তিনি সত্যিই পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে থাকেন, তাহলে পরীক্ষার হাজিরা খাতা, উপস্থিতির রেকর্ড ও সিসিটিভি ফুটেজ যাচাই করলেই বিষয়টি পরিষ্কার হবে।’’
নেছারাবাদ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও ফ্যামিলি কার্ড খানা তথ্যভান্ডার স্বেচ্ছাসেবী নির্বাচন কমিটি সভাপতি অমিত দত্ত বলেন, ‘‘এই বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগ ও পাল্টা দাবির বিষয়ে প্রশাসনের নথিপত্র, পরীক্ষার হাজিরা খাতা এবং সিসিটিভি ফুটেজ যাচাই করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা হবে। তবে নিয়োগ পরীক্ষায় কোনো অনিয়মের সুযোগ নেই।’’


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









