সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলায় শুমেশ্বরী নদীর ওপর নির্মিত ৩২০ মিটার দীর্ঘ একটি সেতুর নামফলক ও সাইনবোর্ড কালো রং দিয়ে মুছে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সেতুটির নামকরণ করা হয়েছিল ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ চামরদানি ইউনিয়নের জলুষা গ্রামের বাসিন্দা মো. আয়াতুল্লাহর স্মরণে ‘শহীদ আয়াতুল্লাহ সেতু’।
নামফলক মুছে দেওয়ার ঘটনায় শহীদ আয়াতুল্লাহর বাবা হাজী মো. সিরাজুল ইসলাম বাদী হয়ে শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার পর মধ্যনগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।
অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ঢাকার সখিপুর আনসার একাডেমি এলাকায় জুলাই আন্দোলনের সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে ১৯ বছর বয়সী মো. আয়াতুল্লাহ শহীদ হন। আন্দোলনের দিন নিখোঁজ হওয়ার ১১ দিন পর ১৬ আগস্ট সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে তাঁর মরদেহের সন্ধান পায় পরিবার। পরে ১৭ আগস্ট রাতে নিজ গ্রামের বাড়িতে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়।
শহীদ আয়াতুল্লাহর আত্মত্যাগ ও স্মৃতি স্মরণীয় করে রাখতে স্থানীয় এলাকাবাসীর উদ্যোগে এবং তৎকালীন জেলা প্রশাসকের সম্মতিক্রমে মধ্যনগরের শুমেশ্বরী নদীর ওপর নির্মিত সেতুটির নাম ‘শহীদ আয়াতুল্লাহ সেতু’ রাখা হয়। সেতুতে তাঁর নাম উল্লেখ করে একটি পরিচিতি সাইনবোর্ডও স্থাপন করা হয়।
সম্প্রতি অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা রাতের আঁধারে সাইনবোর্ডে কালো রং ও স্প্রে ছিটিয়ে ‘শহীদ আয়াতুল্লাহ’ নামটি আংশিকভাবে মুছে ও অস্পষ্ট করে দেয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
মধ্যনগরের জুলাই যোদ্ধা অপি মিয়া বলেন, ‘নামফলকের নাম মুছে দিয়ে ইতিহাস থেকে আয়াতুল্লাহকে মুছে ফেলা যাবে না। যারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তাদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাই। পাশাপাশি সেতুটিকে সরকারিভাবে শহীদ আয়াতুল্লাহর নামে নামকরণ করে প্রবেশমুখে স্থায়ী ও বড় আকারের নামফলক স্থাপনের দাবি জানাচ্ছি।’
জিডির বিষয়ে শহীদ আয়াতুল্লাহর বাবা হাজী মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘আমার ছেলে দেশের জন্য প্রাণ দিয়েছে। এলাকাবাসীর সম্মতিতে সেতুর নাম তার নামে রাখা হয়েছিল। কিন্তু দুষ্কৃতকারীরা সাইনবোর্ডটি নষ্ট করে আমার ছেলের স্মৃতির প্রতি অবমাননা করেছে। একজন শহীদ পিতা হিসেবে এ দৃশ্য দেখে আমি কষ্ট পেয়েছি। আমি প্রশাসনের কাছে নিরপেক্ষ তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।’
মধ্যনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম শাহাবুদ্দিন শাহিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আবেদনটি পাওয়ার পর তা সাধারণ ডায়েরি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









