কুষ্টিয়া জেলাজুড়ে মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গুর সংক্রমণ অব্যাহত রয়েছে। চলতি বছর ১ জানুয়ারি থেকে ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জেলায় মোট ১৩৯ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে শুধুমাত্র কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালেই অর্ধেকেরও বেশি রোগীর চিকিৎসা হয়েছে।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) কুষ্টিয়া সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে প্রকাশিত সর্বশেষ ডেঙ্গু সংক্রান্ত নিয়মিত স্বাস্থ্য বুলেটিন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
কুষ্টিয়া সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্যমতে, রবিবার সকাল ৮টা থেকে সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় নতুন করে ২ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। নতুন আক্রান্ত উভয় রোগীই কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে সরকারি ব্যবস্থাপনায় চিকিৎসা নিতে ভর্তি হয়েছেন।
গত ২৪ ঘণ্টায় উপজেলার অন্য কোনো স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নতুন রোগী ভর্তির তথ্য পাওয়া যায়নি। এছাড়া স্বস্তির বিষয় হলো, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ডেঙ্গুতে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।
চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে সোমবার পর্যন্ত কুষ্টিয়ার বিভিন্ন উপজেলা ও সদর হাসপাতালের আক্রান্তের সংখ্যা বিশ্লেষণ করে দেখা যায়- কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে সর্বোচ্চ ৫৫ জন রোগী ডেঙ্গু নিয়ে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ৫০ জন ছাড়পত্র পেয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন এবং বর্তমানে ৫ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
মিরপুর উপজেলায় মোট ২১ জন আক্রান্ত হয়েছেন। ছাড়পত্র পেয়েছেন ১৮ জন, ১ জন বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য ২ জনকে অন্য হাসপাতালে রেফার্ড (স্থানান্তর) করা হয়েছে।
ভেড়ামারা উপজেলায় মোট আক্রান্ত ২০ জন। ইতোমধ্যে ১৯ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন এবং বর্তমানে ১ জন ভর্তি রয়েছেন। কুমারখালী উপজেলায় মোট আক্রান্ত ১৮ জন। আক্রান্তদের শতভাগই (১৮ জন) চিকিৎসা নিয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন। বর্তমানে ভর্তি কোনো রোগী নেই।
খোকসা উপজেলায় মোট আক্রান্ত ১৫ জন। খোকসাতেও আক্রান্তদের মধ্যে ১৫ জনই সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন।
অপরদিকে দৌলতপুর উপজেলায় মোট আক্রান্ত ১০ জন। এর মধ্যে ৬ জন ছাড়পত্র পেয়েছেন এবং ৪ জন বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
সিভিল সার্জন কার্যালয়ের দেওয়া প্রতিবেদন অনুযায়ী, জেলায় মোট আক্রান্ত ১৩৯ জনের মধ্যে এ পর্যন্ত ১২৬ জন রোগী সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন, অর্থাৎ জেলায় ডেঙ্গু রোগীর সুস্থতার হার প্রায় ৯০.৬ শতাংশ। বর্তমানে জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন মোট ১১ জন ডেঙ্গু রোগী।
এদের মধ্যে কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ৫ জন, দৌলতপুরে ৪ জন এবং ভেড়ামারা ও মিরপুরে ১ জন করে রোগী ভর্তি আছেন। কুমারখালী ও খোকসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বর্তমানে কোনো ডেঙ্গু রোগী ভর্তি নেই।
এছাড়া এ বছর জেলায় এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি বলে স্বাস্থ্য বিভাগের পরিসংখ্যানে নিশ্চিত করা হয়েছে।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা ও চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে লার্ভিসাইড স্প্রে করা এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা অত্যন্ত জরুরি। বর্ষা মৌসুম ও পরবর্তী সময়ে বাসাবাড়ির চারপাশে জমে থাকা পানি পরিষ্কার না করলে এডিস মশার বংশবৃদ্ধি পাওয়ার ঝুঁকি থেকে যায়। কুষ্টিয়া শহরের প্রধান প্রধান এলাকা ও উপজেলা সদরে মশা নিধনে জোর তাগিদ দিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
কুষ্টিয়া সিভিল সার্জন ডাঃ শেখ মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, সাধারণ মানুষকে জ্বর হলে অবহেলা না করে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ডেঙ্গু পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি রাতে ঘুমানোর সময় মশারি ব্যবহার এবং বাড়ির চারপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য সর্বসাধারণের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবেলায় আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছি।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









