একই প্রতিষ্ঠানে ছয় বছর পড়াশোনা করেও একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হতে পারবেন না এমন অনিশ্চয়তায় রবিবার সড়কে নামেন সৈয়দপুর সরকারি বিজ্ঞান কলেজের ৪৮ শিক্ষার্থী ও তাঁদের অভিভাবকেরা। জিপিএ-৫ না পাওয়ায় নিজ কলেজেই ভর্তির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কায় তাঁরা কলেজের সামনে সৈয়দপুর বিমানবন্দর সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন।
রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে কলেজের সামনে গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কে অবস্থান নেন আন্দোলনকারীরা। প্রায় দু ঘন্টা চলে ওই অবেরোধ। এতে বিমানবন্দর সড়কের দুই পাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে বেশ কিছু যানবাহন আটকা
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা জানান, ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে তাঁরা এই প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করে আসছেন। এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ না পাওয়ায় এবার নিজেদের কলেজে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির আবেদন করার সুযোগও নেই। একটি পরীক্ষার ফলাফলের কারণে দীর্ঘদিনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার পথ বন্ধ হয়ে যাওয়াকে তাঁরা হতাশাজনক বলে উল্লেখ করেন। শিক্ষার্থীদের দাবি, নিয়মিত শিক্ষার্থী হিসেবে তাঁদের বিষয়টি মানবিকভাবে বিবেচনা করে ভর্তির সুযোগ দেওয়া হোক। একই সঙ্গে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির ন্যূনতম যোগ্যতা পুনর্বিবেচনারও দাবি জানান তাঁরা।
আন্দোলনে অংশ নেওয়া অভিভাবক উম্মে কুলসুম, ররুবনা খাতুন, মদিনা মনোয়ারা ও আরজু আক্তারসহ অন্যরা বলেন, তাঁদের অনেক সন্তান সামান্য নম্বরের ব্যবধানে জিপিএ-৫ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। দীর্ঘদিন একই প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করা এসব শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ বিবেচনায় নিয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চান তাঁরা।
অভিভাবকেরা আরও জানান, ভর্তির সুযোগ চেয়ে এর আগে দিনাজপুর মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত আবেদন করা হয়েছে। কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছেও বিষয়টি পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানানো হয়। তবে কোনো সমাধান না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত সড়ক অবরোধের কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হন তাঁরা।
কলেজ সূত্র জানায়, ১৯৬৪ সালে প্রতিষ্ঠিত সৈয়দপুর সরকারি বিজ্ঞান কলেজ উত্তরাঞ্চলের অন্যতম পরিচিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। চলতি বছর প্রতিষ্ঠানটির ১০১ শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ১০০ জন উত্তীর্ণ হন। তাঁদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৫২ জন। এ বছর কলেজে একাদশ শ্রেণিতে ৩৫০টি আসন রাখা হয়েছে। গত ২৭ আগস্ট প্রকাশিত ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতে নূন্যতম যোগ্যতা হিসেবে জিপিএ-৫ নির্ধারণ করা হয়। ফলে কলেজটির নিয়মিত ৪৮ শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ না পাওয়ায় নিজ প্রতিষ্ঠানে ভর্তি নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েন।
সড়ক অবরোধের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান নীলফামারী-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাফেজ আব্দুল মুনতাকিম। তিনি আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও কলেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেন এবং বিষয়টি মন্ত্রণালয়ে তুলে ধরার আশ্বাস দেন। তাঁর মধ্যস্থতায় শিক্ষার্থীরা অবরোধ তুলে নেন।
এ বিষয়ে সৈয়দপুর সরকারি বিজ্ঞান কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আব্দুল কালাম আজাদ বলেন, প্রতিবছর কলেজে ভর্তির চাপ বাড়ছে। উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা থেকে শিক্ষার্থীরা এখানে ভর্তি হতে আগ্রহী। তবে সরকারি নীতিমালার বাইরে গিয়ে ভর্তি দেওয়ার সুযোগ কলেজ কর্তৃপক্ষের নেই।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









