প্রেম, শাখা-সিঁদুর পরে কথিত বিয়ে এবং সন্তান জন্মদানের পর স্বীকৃতি না পাওয়াকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের মুখে গিতা রানী দাস (৩০) নামের এক যুবতীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বাটাজোর ইউনিয়নের ঘেয়াঘাট গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মৃতের মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। আজ সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
মৃত গিতা রানী দাস ঘেয়াঘাট গ্রামের দিনমজুর গোপাল চন্দ্র দাসের মেয়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত প্রায় দেড় বছর ধরে প্রতিবেশী লক্ষণ শীলের ছেলে সঞ্জয় শীলের সাথে গিতা রানীর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। একপর্যায়ে তারা শাখা-সিঁদুর পরা ও মালা বদলের মাধ্যমে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন বলে দাবি স্বজনদের। গত দেড় মাস আগে গিতা রানী একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দিলে বিপত্তি বাঁধে। সন্তান জন্মদানের পর থেকে সঞ্জয় ও তার পরিবার গিতাকে স্ত্রী হিসেবে মেনে নিতে অস্বীকার করে।
বিষয়টি নিষ্পত্তিতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ প্রথম দফায় এক গ্রাম্য সালিশের আয়োজন করেন। সেই সালিশে গিতাকে স্ত্রী এবং তার সন্তানকে নিজের পরিচয় দিয়ে ১৫ দিনের মধ্যে ঘরে তুলে নেওয়ার শর্তে রাজি হয় সঞ্জয়। তবে রায়ের পর সঞ্জয় এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যায়।
পরবর্তীতে গত ১১ সেপ্টেম্বর বাটাজোর ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক আজাদ প্যাদার নেতৃত্বে দ্বিতীয় দফায় সালিশ বৈঠক বসে। অভিযোগ উঠেছে, দ্বিতীয় দফার সালিশে সম্পর্ক ছিন্নের বিনিময়ে গিতাকে দেড় লাখ টাকা দেওয়ার একতরফা সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হয়।
মৃতের স্বজন ও স্থানীয়দের একাংশের দাবি, এই রায়কে প্রহসন আখ্যা দিয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন গিতা রানী।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে গিতা রানী হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে বাটাজোর সুইজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
তবে ভিন্ন কথা বলেছেন মৃতের বাবা গোপাল চন্দ্র দাস। তিনি জানান, তার মেয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন।
অন্যদিকে সালিশে উপস্থিত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করে বাটাজোর ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক আজাদ প্যাদা বলেন, আমি এ ধরনের কোনো সালিশ বৈঠকে বসিনি এবং কোনো রায়ও দিইনি।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গৌরনদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিক হাসান রাসেল জানান, গিতা রানীর মৃত্যুকে স্থানীয়দের অনেকে রহস্যজনক দাবি করায় পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করেছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর আসল কারণ স্পষ্ট হবে। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









