পত্রিকার নাম, রেজি নম্বর ও প্রতীক অবৈধভাবে ব্যবহার করে জালিয়াতি এবং ভুয়া বিজ্ঞাপন প্রকাশের অভিযোগে প্রতারক শেখ ফয়েজ আহমেদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ফরিদপুর সদরের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালত মামলাটি গ্রহণ করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
অভিযুক্ত ফয়েজ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার ওপর হত্যাচেষ্টা ও হামলা মামলার এজাহারনামীয় আসামী এবং তার বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ সহ একাধিক অপরাধ কর্মকান্ডের মামলা রয়েছে। সেসব মামলায় ২০২৪ সাল থেকে এ যাবত ২ বার পুলিশের হতে গ্রেফতার হলেও পরে আইনের ফাক ফোকর দিয়ে জামিনে বের হয়ে আবারও বিভিন্ন প্রতারনা ও অপরাধে সক্রিয় হয়ে ওঠেন ফয়েজ।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) আদালতে উপস্থিত হয়ে মামলাটি দায়ের করেন দৈনিক আজকের সারাদেশ পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক সৈয়দ নাজমুল আলম পারভেজ (৪৬)। তিনি ফরিদপুর শহরের রঘুনন্দনপুর এলাকার বাসিন্দা।
মামলার আসামী করা হয়েছে ফরিদপুর শহরের গোয়ালচামট এলাকার মৃত শেখ মানিকের ছেলে শেখ ফয়েজ আহমেদ (৫০)-কে। মামলাটি মুদ্রণযন্ত্র ও প্রকাশনা (ঘোষণা ও নিবন্ধন) আইনে দায়ের করা হয়।
নালিশি আরজিতে উল্লেখ করা হয়, বাদী সৈয়দ নাজমুল আলম দীর্ঘদিন ধরে 'দৈনিক আজকের সারাদেশ' পত্রিকার (রেজি নং-৫৬৮) সম্পাদক ও প্রকাশক হিসেবে সততা ও সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। কিন্তু আসামী শেখ ফয়েজ আহমেদ জালিয়াতি ও প্রতারণার উদ্দেশ্যে বাদীর অনুমতি ব্যতিরেকে পত্রিকার নাম ও রেজি: নম্বর ব্যবহার করে নিজেকে ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক দাবি করে পত্রিকা প্রকাশ করে একটি ভুয়া বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, পত্রিকার মালিকানা আসামীকে হস্তান্তর করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ অসত্য ও ভিত্তিহীন।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও দাবী করা হয়, গত ২৭/০৭/২০২৩ তারিখে ৫৫১ নং অ্যাফিডেভিটের মাধ্যমে বাদীর কাছ থেকে মালিকানা হস্তান্তর করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত একটি দরখাস্ত তৈরি করে ফরিদপুর জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও প্রেসক্লাবে প্রেরণ করেন আসামী। এছাড়াও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দৈনিক আজকের সারাদেশ পত্রিকার নাম ও প্রতীক ব্যবহার করে ভুয়া পেজ খুলে সংবাদ প্রচার ও জালিয়াতি চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
নালিশি সূত্রে আরও জানা যায়, আসামী সাম্প্রতিক বৈষম্যবিরোধী জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার ওপর হত্যাচেষ্টা ও হামলা মামলার এজাহারনামীয় আসামী এবং তার বিরুদ্ধে একাধিক অপরাধমূলক মামলা রয়েছে।
এ বিষয়ে ফরিদপুর কোর্টের সংশ্লিষ্ট আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে বিস্তারিত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দিয়েছেন। মামলার সাক্ষীরা ঘটনা ও জালিয়াতির সততা প্রমাণ করবেন বলে বাদী আদালতে আশা প্রকাশ করেন।
ফরিদপুর জজ কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট তৌহিদুল ইসলাম স্টালিন বলেন, আমার মক্কেল সৈয়দ নাজমুল আলম 'দৈনিক আজকের সারাদেশ' পত্রিকার বৈধ সম্পাদক ও প্রকাশক। আসামী শেখ ফয়েজ আহমেদ প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে পত্রিকার নাম, রেজিষ্ট্রেশন নম্বর ও প্রতীক ব্যবহার করে নিজেকে ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক দাবি করে ভুয়া বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছেন। এমনকি ভুয়া অ্যাফিডেভিটের দোহাই দিয়ে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারসহ বিভিন্ন দপ্তরে বিভ্রান্তিকর দরখাস্ত পাঠিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, এটি মুদ্রণযন্ত্র ও প্রকাশনা (ঘোষণা ও নিবন্ধন) আইন ১৯৭৩-এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং একটি গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ। আমরা ফরিদপুর বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোতোয়ালী আমলী আদালতে আসামীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছি। বিজ্ঞ আদালত বিষয়টি আমলে নিয়ে সত্যতা যাচাইয়ের জন্য অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। আমরা আশা করি, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে আসল সত্য উন্মোচিত হবে এবং আসামী দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি পাবেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









