কক্সবাজারের নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার বদরখালীতে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে একটি আস্তানায় অভিযান চালিয়ে ছয়জনকে আটক করেছে পুলিশ। এ সময় দেশীয় তৈরি তিনটি বন্দুক, ৮৮২টি গুলি, দুটি গুলির খালি খোসা, ক্লিনিং রডসহ অস্ত্র ও গুলি তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।আটক ব্যক্তিদের মধ্যে দুই নারী রয়েছেন। পুলিশের দাবি, তারা একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত দলের সহযোগী হিসেবে কাজ করতেন।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে চকরিয়া থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুর রহমান।
আটক ব্যক্তিরা হলেন—রাজিব ওরফে শুটার রাজিব (২৬), নমি উদ্দিন ওরফে নমি ডাকাত (৪০), জসিম উদ্দিন ওরফে জসু ডাকাত (২৬), মো. সাগর রানা ওরফে শুটার সাগর (২০), জহুরা বেগম (৪৫) ও শহর বানু (৫৫)। তারা সবাই নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা।
পুলিশ জানায়, রবিবার রাত ১০টার দিকে বদরখালী ইউনিয়নের পশ্চিম ছনুয়া পাড়ার একটি বসতঘরে একদল দুষ্কৃতকারী ডাকাতির উদ্দেশ্যে জড়ো হয়েছে—এমন খবর পায় পুলিশ। খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল দুর্গম পথ পেরিয়ে ওই বসতঘরটি ঘিরে ফেলে।
পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ১০ থেকে ১২ জন সন্দেহভাজন ব্যক্তি পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় ধাওয়া দিয়ে এক নারীসহ পাঁচজনকে আটক করা হয়। তবে অন্যরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।ওই বসতঘরে তল্লাশি চালিয়ে দেশীয় তৈরি তিনটি বন্দুক, ১১৫টি গুলি, দুটি গুলির খালি খোসা, একটি ক্লিনিং রড এবং অস্ত্র ও গুলি তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আটক ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই রাতে বদরখালী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের হালকাছা পাড়া এলাকায় আরেকটি অভিযান চালানো হয়। সেখানে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টা করলে শহর বানু নামে আরও এক নারীকে আটক করা হয়।
পুলিশের দাবি, আটক ব্যক্তিরা সংঘবদ্ধ ডাকাত দলের সদস্য। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা ডাকাতির পাশাপাশি অস্ত্র কেনাবেচা এবং ভাড়ায় অস্ত্র দেওয়ার সঙ্গে জড়িত থাকার তথ্য দিয়েছেন।
চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুর রহমান জানান, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। একই সঙ্গে পালিয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।প্রস্তাবিত


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









