ময়মনসিংহের গৌরীপুরে বকেয়া বেতন পরিশোধ ও ছাঁটাই বন্ধসহ বিভিন্ন দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন ডেল্টা স্পিনার্স লিমিটেডের শ্রমিকেরা।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) উপজেলার কলতাপাড়া এলাকায় কারখানার সামনে ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কে কয়েক শ শ্রমিক অবস্থান নেন।
পরে পুলিশ ও স্থানীয় নেতাদের মধ্যস্থতায় শনিবার মালিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনায় সমাধানের আশ্বাস পেয়ে তারা কর্মসূচি শেষ করেন।
শ্রমিকদের অভিযোগ, দুই মাস ধরে তাদের পূর্ণ বেতন দেওয়া হচ্ছে না। নিয়মিত আট ঘণ্টা কাজ করেও কারও বেতন থেকে তিন থেকে চার হাজার টাকা কেটে রাখা হচ্ছে। ১৪ বছর কাজ করার পরও একজন শ্রমিকের বেতন আট হাজার টাকা। বোনাস ও অতিরিক্ত কাজের মজুরি নিয়েও তাদের অভিযোগ রয়েছে। বকেয়া পরিশোধের পাশাপাশি শতভাগ বোনাস, নিয়মিত ছুটি, ন্যায্য মজুরি ও ইচ্ছামতো ছাঁটাই বন্ধের দাবি জানান তাঁরা।
আন্দোলনকারীরা আরও অভিযোগ করেন, আট ঘণ্টার কাজে খাবারের জন্য সময় দেওয়া হয় মাত্র ১০ মিনিট। ছুটি চাইলে গালিগালাজ করা হয়। কারখানায় শিশুশ্রমের অভিযোগও তোলেন তাঁরা।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া সাবেক শ্রমিক মিজানুর রহমান জানান, গত বছরের নভেম্বরে কাজ করার সময় মেশিনে তাঁর একটি আঙুল বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তাঁর অভিযোগ, পুরোপুরি সুস্থ হওয়ার আগেই গত মার্চে ২৩ হাজার ৫৬০ টাকা দিয়ে তাঁকে চাকরিচ্যুত করা হয়। আঙুল হারানোর জন্য আলাদা কোনো ক্ষতিপূরণ পাননি তিনি।
এসব বিষয়ে কারখানার মহাব্যবস্থাপক আবু আহাম্মদ শরীফ বলেন, গ্যাস সংকটের কারণে শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা ও তাদের সম্মতিতে ৬০ শতাংশ বেতনে কারখানা চালু রাখা হয়েছিল। গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হলে পূর্ণ বেতন দেওয়া হবে। শিশুশ্রম, গালিগালাজ ও খাবারের পর্যাপ্ত সময় না দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি। মিজানুরের ক্ষতিপূরণের বিষয়টি ফাইল দেখে জানাবেন বলেও জানান।
মহাব্যবস্থাপক আরও জানান, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কারখানা আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে। শনিবার মালিক ও পরিচালক এসে শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবেন।
গৌরীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুর রহমান জানান, বেতন কমানো ও শ্রমিক ছাঁটাইয়ের প্রতিবাদে শ্রমিকেরা সড়কে নেমেছিলেন। পুলিশ যাওয়ার পর ১০ মিনিটের মধ্যে তাঁরা সড়ক ছেড়ে দিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
ওসি বলেন, ‘‘পুলিশ, স্থানীয় নেতৃবৃন্দ এবং ইউপি চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে শ্রমিকদের ১০ সদস্যের প্রতিনিধিদল কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনায় বসে। সেখানে শনিবার মালিকের উপস্থিতিতে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হলে শ্রমিকেরা বাড়ি ফিরে যান।’’


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









