নরসিংদীর মাধবদীতে গলার সোনার চেইনের জন্য নামাজরত বৃদ্ধা জাহানারা বেগমকে (৭৩) কুপিয়ে হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় প্রধান আসামিসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যাদের মধ্যে দুজন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মাধবদী থানা কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মোঃ আশিকুর রহমান এসব তথ্য জানান।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— মাধবদী থানার স্বর্ননিগৈড় গ্রামের মৃত হারুন মিয়ার ছেলে হৃদয় মিয়া (২৭), ছায়েদের ছেলে কাদির মিয়া (২৭) এবং আকমান মিয়ার ছেলে আবু মিয়া (২৯)। পুলিশ জানায়, কাদিরকে গত ৩০ জুলাই, হৃদয়কে ৯ আগস্ট এবং প্রধান আসামি আবু মিয়াকে ১৬ সেপ্টেম্বর গ্রেপ্তার করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ জানায়, গত ৩০ জুলাই বিকেলে স্বর্ননিগৈড় গ্রামে নিজ বাড়ির বারান্দায় আসরের নামাজরত অবস্থায় জাহানারা বেগমকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ঘটনার পর নিহতের ছেলে মোহাম্মদ ইসমাইল মিয়া বাদী হয়ে মাধবদী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার করে।
আসামিদের জবানবন্দির বরাতে পুলিশ আরও জানায়, বৃদ্ধার গলার চেইন চুরির উদ্দেশ্যে প্রায় ৭-৮ মাস আগে স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় বসে এই হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। ঘটনার দিন লোডশেডিংয়ের সুযোগ নিয়ে আসামিরা বাড়িতে প্রবেশ করে আক্রমণ চালায়। একপর্যায়ে বিদ্যুৎ চলে এলে বৃদ্ধা আসামিদের চিনে ফেলেন এবং বাধা দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁর পিঠ ও মাথায় এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গলার চেইন নিয়ে তারা পালিয়ে যায়।
সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সজীব শাহরীন ও মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ কামাল হোসেনসহ জেলায় কর্মরত সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









