ভোলার মনপুরায় মসজিদের উন্নয়ন কাজের হিসাব নিয়ে কথা বলাকে কেন্দ্র করে ৪১ নম্বর দক্ষিণ রহমানপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সিনিয়র সহকারী শিক্ষক আব্দুজ জাহেরকে পিটিয়ে রক্তাক্ত করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় শিক্ষক সমাজ ও সচেতন মহলের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার সৃষ্টি হয়েছে।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) উপজেলার দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের পচাঁ কোড়ালিয়া বেড়িবাঁধ সংলগ্ন একটি মসজিদে জুমার নামাজের পর এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় মুসল্লি ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জুমার নামাজের বয়ান শেষে মসজিদ কমিটির সভাপতি শাহে আলম উন্নয়ন কাজের হিসাব দিচ্ছিলেন। এ সময় স্থানীয় বিএনপি নেতা বিল্লাল হোসেন কাজের তুলনায় শ্রমিক ও খরচ বেশি হয়েছে বলে প্রশ্ন তোলেন। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে মসজিদের নিয়মিত মুসল্লি ও শিক্ষক আব্দুজ জাহের মাস্টার বিল্লালকে দায়িত্ব নিয়ে কাজটি করার অনুরোধ জানান। এতে দুজনের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। জাহের মাস্টারকে অপমানজনক কথা বলা হলে তাঁর দুই ছেলে সুমন ও নুর হোসেন এর প্রতিবাদ করেন।
অভিযোগ রয়েছে, এরপর যুবদল সদস্য বিল্লাল হোসেনের নেতৃত্বে পাঞ্জাত আলী রাড়ী, বাকের রাড়ী, মো. সালাউদ্দিন সরদার ও সিরাজ সরদারসহ কয়েকজন মিলে শিক্ষক জাহের মাস্টার ও তাঁর ছেলেদের ওপর অতর্কিত হামলা চালান। এতে জাহের মাস্টার রক্তাক্ত আহত হন এবং তাঁর পরনের পাঞ্জাবি ছিঁড়ে ফেলা হয়। হামলাকারীদের মারধরে তার দুই ছেলেও আহত হন। এ ঘটনার জেরে জুমার নামাজ শেষ না করেই মুসল্লিদের মসজিদ থেকে বের হয়ে আসতে হয়।
হামলার শিকার শিক্ষক আব্দুজ জাহের মাস্টার বলেন, "মসজিদের খরচ নিয়ে বিল্লাল প্রশ্ন তুললে আমি শুধু বলেছিলাম, তুমি দায়িত্ব নিয়ে কাজটি করলেই তো হতো। এ কথার জেরেই আমাদের ওপর পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়েছে এবং আমাকে রক্তাক্ত করা হয়েছে। আমি এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।"
মসজিদ কমিটির সভাপতি শাহে আলম বলেন, "কীভাবে এমন ঘটনা ঘটল, আমরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই এ ঘটনা ঘটে গেছে। আমরা এ ঘটনায় লজ্জিত ও অনুতপ্ত।"
এদিকে বাবার ওপর হামলার বিচার চেয়ে মনপুরা উপজেলা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি রাসেল মাহমুদ তাঁর ফেসবুকে আবেগঘন স্ট্যাটাস দিয়েছেন। তিনি লেখেন, "আমার বাবা কোনো দল করে না... কিন্তু আমার বাবাকে মসজিদে কিছু পাতি নেতা সন্ত্রাসী হামলা ও মব করে রক্তাক্ত করেছে..."
ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে মনপুরা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মনোয়ারা বেগম বলেন, "শিক্ষকরা জাতি গড়ার কারিগর। তাঁদের ওপর এ ধরনের হামলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানাই।"
তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত বিল্লাল হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মনপুরা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আশরাফ হোসেন জানান, শিক্ষকের ওপর হামলার অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। বিস্তারিত খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।
এ বিষয়ে মনপুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খান সালমান হাবীব বলেন, "মসজিদের মতো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা কাম্য নয়। অভিযোগ পেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নিতে পারবেন না। সত্যতা পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









