আখরজানি গ্রামের পাশে ছিল একটি সুন্দর সবুজ। সেই বনে ছিল একটি কদমগাছ। কদম গাছের ডালে ছোট্ট একটি বাসা বুনেছিল দোয়েল পাখি। দোয়েল পাখির ছোট্ট দুটি সুন্দর ছানা আছে। ভোরের আলো ফুটতেই দোয়েল পাখি প্রতিদিন মিষ্টি সুরে গান গায়। তার গানে শুনে সবাই বনের সব পশুপাখিই মুগ্ধ হয়।
দোয়েল পাখির ছানা দুটো মুগ্ধ হয়ে মায়ের গান শুনে।সেই বনেই দোয়েল পাখির বাসার কাছে একটি তাল গাছের তলায় থাকে একটি শিয়াল। তাকে দেখে বনের অনেকেই ভয় পায়। কিন্তু শিয়ালের মন ছিল নদীর জলের মতো স্বচ্ছ, অন্য শিয়ালের মতো তার মনে দুষ্টু কোন বুদ্ধি নেই।
দোয়েল শিয়ালের সেই ভালো মনটা বুঝে।তাই দুজনের মধ্যে গড়ে উঠে এক গভীর বন্ধুত্ব। প্রতিদিন সকালে দোয়েল পাখি উড়ে উড়ে খাবারের খোঁজে যায়, বাসায় ছোট্ট দুটি দোয়েল পাখির ছানা। দোয়েল পাখি শিয়ালকে বলে আমার ছানা দুটো রেখে খাবারের খোঁজে যাচ্ছি বন্ধু তুমি একটু খেয়াল রেখো।শিয়াল প্রতিদিন দোয়েল পাখি ফিরে না আসা পর্যন্ত ছানাদের পাহারা দেয়।
একদিন হঠাৎ আকাশে কালো মেঘ। শুরু হলো দমকা হাওয়া।প্রচুর বৃষ্টির সাথে হালকা বাতাসে দোয়েল পাখির ছোট্ট বাসাটি ভেঙে মাটিতে পড়ে গেল। শিয়াল ছানা দুটোকে কচু গাছের পাতা দিয়ে বৃষ্টি থেকে আগলে রাখল নিজের কাছে। বৃষ্টি থেমে গেলে দোয়েল পাখি ফিরে এলো। দোয়েল পাখির চোখে পানি টলমল করছে।
শিয়াল ধীরে ধীরে তার কাছে এসে বলে বন্ধু, মন খারাপ করো না। ঘর ভেঙেছে,কিন্তু তোমার ছানারা নিরাপদে ছিল আমার কাছে। ঝড় বৃষ্টি সব প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে আমাদের এভাবেই জীবন পার করতে হবে। কষ্ট পেয়ো না আমি তোমার বাসার জন্য শুকনো ডাল, নরম ঘাস আর সবুজ পাতা কুড়িয়ে আনব। দোয়েল পাখি ছানাগুলোকে কাছে নিয়ে আদর করে। পরদিন সকালে রোদ উঠলেই শিয়াল দোয়েল পাখির বাসা বাড়ানোর জন্য সব কিছু এনে দেয় অল্প সময়েই দোয়েল পাখি নিজের জন্য নতুন একটি সুন্দর বাসা বানিয়ে ফেলে।
নতুন বাসা পেয়ে ছানা দুটো খুব খুশি হয়।সন্ধ্যা নামতেই দোয়েল পাখি খুশিতে আবার গান গায়। শিয়াল তাল গাছের নিচে বসিয়ে দোয়েল পাখির গান শুনে। দোয়েল পাখি শিয়ালকে বলে সত্যিকারের বন্ধু সেই, যে বিপদের দিনে হাসিমুখে পাশে এসে দাঁড়ায়। তুমি আমার সত্যিকারের বন্ধু। এভাবেই পাশে থেকো সবসময়। শিয়াল বলে আসলে তোমার মনটা সুন্দর।বন্ধুত্বের জন্য দরকার হলো একটা সুন্দর মন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









