শরীয়তপুরের জাজিরায় পদ্মা সেতুর টোলপ্লাজার বিদ্যুৎ ফিডার থেকে একটি বেসরকারি রেস্টুরেন্টে সংযোগ দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ‘ইলিশ পোলাও’ নামের ওই রেস্টুরেন্টটি টোলপ্লাজা থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে। সেখানে বিদ্যুৎ পৌঁছাতে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের জায়গায় অন্তত ২২টি খুঁটি স্থাপন করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রশ্ন, পদ্মা সেতুর মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার জন্য নির্ধারিত বিদ্যুৎ ফিডার থেকে একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে সংযোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে নিরাপত্তার বিষয়টি কীভাবে বিবেচনা করা হয়েছে। তবে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তারা বলছেন, টোলপ্লাজার ফিডারে পর্যাপ্ত লোড থাকায় কারিগরি বিষয় বিবেচনা করেই সংযোগ দেওয়া হয়েছে। রেস্টুরেন্টের মালিকও দাবি করেছেন, নিয়ম মেনেই তিনি সংযোগ নিয়েছেন।
স্থানীয় ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি সূত্রে জানা গেছে, পদ্মা সেতু ও এর আশপাশের এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য দুটি সাবস্টেশন ও আটটি ফিডার রয়েছে। এসব ফিডারের মাধ্যমে পদ্মা সেতুসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, বাজার ও আশপাশের এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়।
জাজিরার নাওডোবা ইউনিয়নের তস্তারকান্দি এলাকায় ‘ইলিশ পোলাও’ রেস্টুরেন্টটির অবস্থান। আগে স্থানীয় একটি ফিডার থেকে সেখানে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হতো। রেস্টুরেন্টের মালিক ইকবাল হোসেনের ভাষ্য, ওই ফিডারে প্রয়োজনীয় লোড না থাকায় পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য আবেদন করলে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি টোলপ্লাজার ফিডার থেকে সংযোগ দেয়।
নতুন সংযোগ দিতে প্রায় এক কিলোমিটার এলাকায় ২২টি বৈদ্যুতিক খুঁটি স্থাপন করা হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান। তাঁদের আশঙ্কা, রেস্টুরেন্টের লাইনে কোনো দুর্ঘটনা বা বৈদ্যুতিক ত্রুটি দেখা দিলে তার প্রভাব টোলপ্লাজার বিদ্যুৎ সরবরাহেও পড়তে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দা ইমরান আল নাজির বলেন, পদ্মা সেতু একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। টোলপ্লাজার জন্য নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থা রয়েছে। সেই ফিডার থেকে একটি বেসরকারি রেস্টুরেন্টে সংযোগ দেওয়ার বিষয়টি তাঁদের কাছে প্রশ্ন তৈরি করেছে। কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে এর প্রভাব টোলপ্লাজার বিদ্যুৎ সরবরাহে পড়তে পারে কি না, তা যাচাই করা প্রয়োজন।
আরেক বাসিন্দা আশরাফ বলেন, তাঁদের এলাকার বিদ্যুৎ সংযোগ একসময় সেনাবাহিনীর সার্ভিস এরিয়ার ফিডার থেকে দেওয়া হতো। পরে পদ্মা সেতু গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা হওয়ায় ওই সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে সাধারণ ফিডার থেকে বিদ্যুৎ দেওয়া হয়। তাঁর প্রশ্ন, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার সংযোগ থেকে যদি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ দেওয়া যায়, তাহলে তাঁদের আগের সংযোগ কেন পরিবর্তন করা হয়েছিল।
রেস্টুরেন্টের মালিক ইকবাল হোসেন বলেন, ‘আগে অন্য একটি ফিডার থেকে আমাদের রেস্টুরেন্টে বিদ্যুৎ সংযোগ ছিল। কিন্তু প্রয়োজনীয় লোড না থাকায় পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য নিয়ম মেনে আবেদন করি। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি সংযোগ দিয়েছে। সংযোগের জন্য প্রয়োজনীয় সব খরচ আমিই বহন করেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি যদি নিয়মের বাইরে কিছু করতাম, তাহলে পল্লী বিদ্যুৎ আমাকে সংযোগ দিত না।
নতুন বিদ্যুৎ লাইন স্থাপনে ব্যবহৃত খুঁটিগুলোর জায়গা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, খুঁটিগুলোর জন্য বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের জায়গা ব্যবহার করা হয়েছে।
বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী প্রকৌশলী (পদ্মা সেতু) আবু সাদ নিলয় বলেন, তাঁদের জায়গা ব্যবহারের জন্য পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ এককালীন ভাড়া পরিশোধের শর্তে অনুমতি চেয়েছিল। পরে নিয়ম অনুযায়ী জায়গা ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
শরীয়তপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (কারিগরি) নাজমুল হাসান বলেন, ‘গ্রাহকের অর্থায়নে লাইনটি নির্মাণ করা হয়েছে। পদ্মা সেতুর টোলপ্লাজার ফিডারে পর্যাপ্ত লোড থাকায় ওই ফিডার থেকে রেস্টুরেন্টে সংযোগ দেওয়া হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘আশপাশে অন্য কেউ সংযোগ নিতে চাইলে কারিগরি বিষয় বিবেচনা করে সংযোগ দেওয়ার সুযোগ থাকলে দেওয়া হবে। আমরাও চাই, পদ্মা সেতুর মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ বজায় থাকুক।’
তবে জনগুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার বিদ্যুৎ সংযোগ থেকে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে সংযোগ দেওয়া সাধারণত এড়িয়ে চলা হয় বলেও জানান পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এই কর্মকর্তা।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









