কুষ্টিয়া প্রেস ক্লাবের সদস্য ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক এম এ উল্লাসের ওপর বর্বরোচিত হামলাকারী দুই আসামিকে কারাগারে না পাঠিয়ে জামিন প্রদানের প্রতিবাদে তীব্র ক্ষোভ ও বিক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ। এ ঘটনার প্রতিবাদে কুষ্টিয়া প্রেস ক্লাবের উদ্যোগে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (২১সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় আয়োজিত এ বিক্ষোভ সমাবেশে কুষ্টিয়ায় কর্মরত প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়ার বিপুল সংখ্যক সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মী অংশগ্রহণ করেন। ব্যানার হাতে নিয়ে তারা হামলায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং বিচার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার দাবি জানান।
বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকের ওপর হামলা স্বাধীন সাংবাদিকতার মুখে এক বড় আঘাত। চিহ্নিত হামলাকারীদের গ্রেফতারের পর জেল হাজতে প্রেরণ না করে অতিদ্রুত জামিন দেওয়ায় আমরা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। আসামিদের এভাবে জামিন পাওয়ার ঘটনা অপরাধীদের আরও উৎসাহিত করবে এবং স্থানীয় সাংবাদিকদের নিরাপত্তা মারাত্মক হুমকির মুখে ফেলবে।
সমাবেশ থেকে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে হামলাকারীদের জামিন বাতিল করে তাদের আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি সুনিশ্চিত করার জোর দাবি জানান। অন্যথায় কুষ্টিয়ার সমগ্র সাংবাদিক সমাজকে সাথে নিয়ে আরও কঠোর ও বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দেন তারা।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, কুষ্টিয়া প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি আল মামুন সাগর, সাধারণ সম্পাদক আবু মনি জুবায়ের রিপন, সহ সভাপতি লুৎফর রহমান কুমার, নির্বাহী সদস্য আনিসুজ্জামান ডাবলু, সাংবাদিক হাসান আলী, কে এম আর শাহিন, লিপু খন্দকারসহ বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ। এর আগে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের প্রধান ফটক দিয়ে আদালতে প্রবেশ করতে গেলে পুলিশ তাতে বাধা দেয়। বাধা উপেক্ষা করে তারা আদালত প্রাঙ্গনে প্রবেশ করে সমাবেশ করেন।
উল্লেখ্য,গত শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুমারখালী পৌরসভার কুণ্ডুপাড়া এলাকায়
পৌরসভার রাস্তা নির্মাণে নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগের তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে বাংলা টিভির কুমারখালী উপজেলা প্রতিনিধি এম এ উল্লাস সন্ত্রাসী হামলার শিকার হন। হামলায় মারাত্মক জখম হওয়া ওই সাংবাদিককে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে পুলিশ।
সরকারি রাস্তা নির্মাণে নিম্নমানের ইট ও সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠায় অনিয়মের বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপে ইতিপূর্বে ওই সড়কের নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। তবে শনিবার দুপুরে প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই ঠিকাদারের লোকজন পুনরায় কাজ শুরু করে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজটি আবারও বন্ধ করে দেন কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ফারজানা আখতার। ইউএনও স্থান ত্যাগ করার পরপরই সেখানে তথ্য ও ছবি সংগ্রহ করছিলেন সাংবাদিক এম এ উল্লাস। এ সময় ২০ থেকে ২৫ জনের একটি সশস্ত্র সন্ত্রাসী দল তাঁর ওপর চড়াও হয় এবং অতর্কিত হামলা চালিয়ে তাঁকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে মারাত্মকভাবে জখম করে।
এদিকে ঘটনার পর পরই অভিযোগ ওঠে, কুষ্টিয়া-৪ আসনের জামায়াত সমর্থিত সংসদ সদস্য আফজাল হোসেনের ছেলে শোভনের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী এই নৃশংস হামলা চালিয়েছে। পরে এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়। পুলিশ সাংবাদিকের ওপর হামলার মামলায় কুষ্টিয়া-৪ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মো. আফজাল হোসেনের চাচা আমিরুল ইসলাম (৫৫) ও কথিত পিএস মারুফ হোসেন (৩৫)সহ দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে।
গত শনিবার গভীর রাতে উপজেলার নন্দলালপুর ইউনিয়নের এলংগী এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে গত রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) সকালে তাদের আদালতে পাঠানো হয়। এরপর দুপুরে আসামিদের কারাগারে না পাঠিয়ে জামিন মঞ্জুর করেন আদালত। এদিকে সাংবাদিক হামলার মামলার আসামিদের কারাগারে না পাঠিয়ে জামিন মঞ্জুর করায় ক্ষুব্দ হয়ে ওঠে জেলার সকল পর্যায়ের সাংবাদিকরা। তারা আজ সোমবার সকালে কুষ্টিয়া জেলা জজের আদালত ঘেরাও কর্মসূচি ঘোষণা দেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









