কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে শোক র্যালি ও মানববন্ধন করেছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচত্ত্বরে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে শিক্ষকরা কুমিল্লার কিশোর গ্যাং এর উৎপাত, আইনশৃঙ্খলার অবস্থার অবনতি, অনতিবিলম্বে দোষীদের শাস্তির বিচার এবং ক্যাম্পাস এলাকায় পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের দাবি তুলে ধরেন।
কুবি শিক্ষক সমিতির সদস্য সচিব অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জুলহাস উদ্দিনের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন সরকার, শিক্ষক সমিতির আহবায়ক শামীমা নাসরিন, বিভিন্ন অনুষদের ডিন ও হলের প্রভোস্টবৃন্দ।
মানববন্ধনে ইউট্যাব, কুবি শাখার সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মো: শাহাদাৎ হোসেন বলেন, “আমরা ডিসি মহোদয় ও এসপি মহোদয়ের সঙ্গে মিটিং করেছি। যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাদের পাশাপাশি এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত থাকলে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হোক। রামিসা হত্যাকাণ্ডের মতো এই হত্যাকাণ্ডেরও অতি দ্রুত বিচার সম্পন্ন করে রায় বাস্তবায়নের জন্য আমরা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।”
তিনি আরো বলেন, “আমরা পাশাপাশি প্রশাসনকে বলতে চাই, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা- ম্যাজিক প্যারাডাইস থেকে শুরু করে উত্তর গন্ধমতি এবং এদিকে বর্ডার গার্ডের সদর দপ্তর পর্যন্ত এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা রয়েছে। পুলিশ প্রশাসনের প্রতি আমাদের আহ্বান, অতি দ্রুত এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।”
কুবি শিক্ষক সমিতির আহ্বায়ক ড. শামীমা নাসরিন বলেন, “আমাদের দেশ এক চরম অবক্ষয় ও রাজনৈতিক সংকটের মুখোমুখি হচ্ছে। অপ্রতীমের এই নৃশংসভাবে খুন হয়ে যাওয়াটা শুধুমাত্র একটি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনা নয়, এটা সারা বাংলাদেশের জনগণের যে একটা দুর্দশামূলক অবস্থা তার-ই একটা প্রতিচ্ছবি। আমাদের দেশে যেভাবে সুস্থ রাজনৈতিক অবস্থার এবং আইনের পরিস্থিতির একটা তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে, সেখানে প্রশাসন সবার আগে এগিয়ে আসুক। অপ্রতীমের ঘটনায় হয়তো আমরা ভাগ্যবান যে আমাদের শিক্ষক এবং আমাদের ছাত্ররা সকলেই এগিয়ে এসেছিলেন। কিন্তু আরো আরো অপ্রতীম রয়েছে আমাদের দেশে যাদের জন্য কিন্তু এভাবে বলার কেউ নেই। তারা কেবল প্রশাসনের উপরেই নির্ভর করছেন। তাদের জন্য প্রশাসন কাজ করুক।”
মানববন্ধনে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. আবদুল হাকিম বলেন, “অপ্রতীম আমাদের সন্তান। আমরা আর কত মানব বন্ধন করব? আমরা জানি জানিয়ে দিতে চাই শুধুমাত্র কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় নয়, সারা দেশে যে সন্ত্রাসী কিশোর গ্যাং এর আখড়া হয়েছে ; এসব দমন করতে হবে। আমরা আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে বিচার চাই।”


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









