বরিশালে ইন্দো-বাংলা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের বন্ধ কারখানা খুলে দেওয়া ও শ্রমিকদের বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করেছেন শ্রমিকদের সন্তানেরা।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় নগরীর ইন্দো-বাংলা ফার্মাসিউটিক্যালস কারখানার সামনে এ কর্মসূচির আয়োজন করে ইন্দো-বাংলা ফার্মাসিউটিক্যালস শ্রমিক সংগ্রাম পরিষদ। সমাবেশ শেষে শ্রমিকদের সন্তানদের অংশগ্রহণে নগরীতে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। পরে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেন আন্দোলনকারীদের একটি প্রতিনিধি দল।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ইন্দো-বাংলা ফার্মাসিউটিক্যালস শ্রমিক সংগ্রাম পরিষদের সহসভাপতি জসিম উদ্দিন।
এতে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য দেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-(বাসদ) বরিশাল জেলা শাখার সমন্বয়ক ও শ্রমিক সংগ্রাম পরিষদের উপদেষ্টা ডা. মনীষা চক্রবর্তী, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের বরিশাল জেলা শাখার ক্রীড়া সম্পাদক গাজী মো. বেল্লাল হোসেন, বরিশাল রিকশা-ভ্যান চালক শ্রমিক ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক শহিদুল শেখ, সোনারগাঁও টেক্সটাইল মিল লিমিটেড শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেনসহ অন্যরা।
সমাবেশে শ্রমিকদের সন্তান সঞ্চিতা দাস, মো. জিহাদ খান, শারাবন তোহরা, নাফছি ও রিয়াসহ অনেকে বক্তব্য দেন।
বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কারখানাটি শ্রমিকদের বিভিন্ন দাবি পূরণ করছে না। গত মার্চে মালিক, শ্রমিক ও কলকারখানা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের নিয়ে অনুষ্ঠিত ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে শ্রমিকদের পরিচয়পত্র ও নিয়োগপত্র প্রদানসহ শ্রম আইন অনুযায়ী বিভিন্ন দাবি আগস্টের মধ্যে বাস্তবায়নের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসব দাবি বাস্তবায়ন না করে আগস্ট মাসের বেতনও পরিশোধ করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন তারা।
তাদের অভিযোগ, এরই মধ্যে কারখানা বন্ধের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। গত ১০ সেপ্টেম্বর একজন শ্রমিক ও এক জুনিয়র অফিসারের মধ্যে কথাকাটাকাটির ঘটনাকে কেন্দ্র করে কারখানার কর্মকর্তারা কর্মবিরতি পালন করেন। পরে কর্তৃপক্ষ সেটিকে শ্রমিকদের ‘অবৈধ ধর্মঘট’ হিসেবে উল্লেখ করে শ্রম আইনের ১৩(১) ধারায় নোটিশ জারি করেছে বলে দাবি করেন শ্রমিক নেতারা।
তারা আরও অভিযোগ করেন, শ্রমিকদের দাবি-দাওয়া আদায়ের আন্দোলনকে দমিয়ে রাখতে শ্রম আইনের ২৩ ধারায় সব শ্রমিককে একসঙ্গে এবং সাতজন শ্রমিককে আলাদাভাবে স্থায়ী বহিষ্কারের কথা উল্লেখ করে নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
তবে শ্রমিক নেতাদের দাবি, তারা কোনো অবৈধ ধর্মঘট করেননি। শ্রম আইন অনুযায়ী নিয়মতান্ত্রিকভাবে দাবি-দাওয়া তুলে ধরার কারণেই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সমাবেশে শ্রমিকদের সন্তানরা বলেন, তাদের বাবা-মায়ের চাকরি ও আয় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিবারের দৈনন্দিন খরচ চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। স্কুলের বেতন, টিফিনের টাকা ও বাড়িভাড়া পরিশোধে সংকট তৈরি হয়েছে। এমনকি কোচিংয়ের ফি দিতে না পারায় অনেকের পড়াশোনাও ব্যাহত হচ্ছে।
তারা দ্রুত শ্রমিকদের বকেয়া বেতন পরিশোধ এবং কারখানা পুনরায় চালুর দাবি জানান।
সমাবেশ থেকে অবৈধ নোটিশ প্রত্যাহার, শ্রমিকদের চাকরি বহাল রাখা, বকেয়া বেতন পরিশোধ এবং ইন্দো-বাংলা ফার্মাসিউটিক্যালস কারখানা দ্রুত খুলে দেওয়ার দাবি জানানো হয়।
পরে শ্রমিকদের সন্তানদের নেতৃত্বে একটি বিক্ষোভ মিছিল নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। মিছিল শেষে আন্দোলনকারীদের একটি প্রতিনিধি দল বরিশাল জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেয়।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









