একসময় নিজের জমিতে সীমিত পরিসরে সবজির চারা উৎপাদন করতেন স্থানীয়রা। এখন সেই চারা যাচ্ছে দেশের প্রায় ৪০ জেলায়। নার্সারি ঘিরে তৈরি হয়েছে কর্মসংস্থান, বাড়ছে চারা কেনাবেচা। সবজি চারা উৎপাদনকে কেন্দ্র করে বদলে যাচ্ছে বগুড়ার শাহজাহানপুর উপজেলার কয়েকটি গ্রামের চিত্র, পাল্টে যাচ্ছে কৃষিনির্ভর মানুষের জীবনযাত্রা।
স্থানীয় নার্সারি মালিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শাহজাহানপুরের বিভিন্ন গ্রামে মৌসুমভেদে বিপুল পরিমাণ সবজির চারা উৎপাদন করা হয়। মরিচ, টমেটো, ফুলকপি, বাঁধাকপিসহ বিভিন্ন সবজির চারা কিনতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের কৃষক ও ব্যবসায়ীরা এখানে আসেন। সংশ্লিষ্টদের হিসাবে, এক মৌসুমে এ এলাকায় প্রায় ৪০ কোটি টাকার চারা কেনাবেচা হয়ে থাকে।
স্থানীয়ভাবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, আশির দশকে শামসু পাগলা নামে পরিচিত এক ব্যক্তি সাধারণ উদ্যোগ হিসেবে সবজির চারা উৎপাদন শুরু করেন। প্রথমদিকে নিজের জমিতে রোপণের পর অতিরিক্ত চারা বিক্রি করতেন তিনি। এরপর ধীরে ধীরে চারা উৎপাদন ও বিক্রি বাণিজ্যিক রূপ নিতে শুরু করে।
১৯৯২ সালের দিকে আমজাদ হোসেন বাণিজ্যিকভাবে চারা উৎপাদনে যুক্ত হন। প্রায় অর্ধশতক জমিতে মরিচের চারা উৎপাদন দিয়ে শুরু করে ধীরে ধীরে বাড়াতে থাকেন পরিসর। বর্তমানে তার মতো অনেকেই নার্সারি গড়ে তুলেছেন। পাশাপাশি আশপাশের গ্রামেও ছড়িয়ে পড়েছে এই উদ্যোগ।
শীতকালীন সবজি থেকে শুরু করে বিভিন্ন মৌসুমের ফসলের চারা উৎপাদন করা হয় এসব নার্সারিতে। চারা উৎপাদনের জন্য তৈরি করা হয় বিশেষ বেড। বীজতলা তৈরি থেকে শুরু করে চারা পরিচর্যা, রোগবালাই নিয়ন্ত্রণ ও বাজারজাত—প্রতিটি ধাপেই প্রয়োজন হয় শ্রমিকের। ফলে নার্সারিগুলোতে স্থানীয় নারী-পুরুষসহ অনেক মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। কৃষিনির্ভর এসব এলাকায় চারা উৎপাদন এখন অনেকের জীবিকারও মাধ্যম হয়ে উঠেছে।
শুধু স্থানীয় চাহিদা মেটানো নয়, ভালো মানের চারা উৎপাদনের কারণে দেশের বিভিন্ন জেলার কৃষকরাও শাহজাহানপুরের নার্সারিগুলোর ওপর নির্ভর করছেন। চারা ব্যবসায়ীরা জানান, মানসম্মত বীজ, সঠিক পরিচর্যা ও রোগমুক্ত চারা উৎপাদনই তাদের সাফল্যের মূল কারণ।
শাহজাহানপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আমিনা খাতুন বলেন, ‘আমরা নিয়মিত এসব নার্সারি পর্যবেক্ষণ করছি। পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে কারিগরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। রোগবালাই ও পুষ্টি বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শও দেওয়া হচ্ছে।’
স্থানীয় নার্সারি মালিকদের সংগঠনের নেতারা জানান, সংগঠনের মাধ্যমে চারা উৎপাদন ও বাজারজাতের বিষয়টি আরও গোছানো হচ্ছে। ভালো মানের বীজ সংগ্রহ, রোগমুক্ত ও স্বাস্থ্যকর চারা উৎপাদন এবং প্রতিটি নার্সারিতে মানসম্মত চারা সরবরাহ নিশ্চিত করাই এখন তাদের লক্ষ্য।
কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পরিকল্পিতভাবে এই খাতকে এগিয়ে নেওয়া গেলে শাহজাহানপুর শুধু সবজির চারা উৎপাদনের জন্যই নয়, দেশের অন্যতম বড় নার্সারি অঞ্চল হিসেবেও আরও পরিচিতি পেতে পারে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









