বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেছেন, ‘‘চব্বিশের আন্দোলনে জনগণের ওপর যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকার পরও তারা পরিকল্পিত সন্ত্রাস ও নাশকতা করে দেশকে অস্থিতিশীল করার চক্রান্ত করছে। এই চক্রান্ত বরদাস্ত করা হবে না, তাদের কোনো ছাড় নাই। কার্যক্রম নিষিদ্ধ ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের গতিবিধি নজরে রাখাতে হবে। কেউ নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে চাইলে তাদের স্থানীয়ভাবে প্রতিহত করতে হবে, প্রশাসনকে খবর দিতে হবে। এরা ফ্যাসিস্ট ও স্বৈরাচার, এদের কোনো ছাড় নাই।’’
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ময়মনসিংহ নগরীর হরিকিশোর রায় রোডস্থ বিএনপির কার্যালয় প্রাঙ্গণে দক্ষিণ জেলা বিএনপি আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রিন্স বলেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যখন ফ্যাসিবাদের ধ্বংসস্তুপের ওপর দাঁড়িয়ে দেশ পুনর্গঠন, জনসমস্যা সমাধান ও নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়নে কাজ করছেন, তখন দেশকে অস্থিতিশীল করতে দেশ ও বিদেশে নানা ষড়যন্ত্র হচ্ছে। এ বিষয়ে সবাইকে সর্তক থাকতে হবে। দেশের মানুষ কোনো ধরনের সন্ত্রাস, নৈরাজ্য ও অস্থিতিশীলতা চায় না। বিএনপি সংঘাতের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না এবং সংঘাতে জড়াতেও চায় না। ’’
জামায়াত ও এনসিপি জোটের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘‘রহস্যজনকভাবে ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগের চলমান সন্ত্রাস নৈরাজ্যৈর বিরুদ্ধে জামায়াত-এনসিপি জোটের নেতাদের বক্তব্য বা কোনো কর্মসূচি নাই। তাদের সব বক্তব্য ও কর্মসূচি গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সাত মাস বয়সী সরকারের বিরুদ্ধে। ডিসেম্বরকে কেন্দ্র করে পতিত স্বৈরাচার ও রাজাকারদের মধ্যে নতুনভাবে রাখী বন্ধন হলো কী-না, জনগণ তা পর্যবেক্ষণ করছে।’’
জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয় প্রসঙ্গে সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, “উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া ভঙ্গুর অর্থনীতির কারণে সরকার চায় জনগণের ওপর চাপ যতটা সম্ভব কম থাকুক। কিন্তু দীর্ঘ সময় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের উচ্চমূল্য, বৈদেশিক মুদ্রায় জ্বালানি আমদানি ব্যয় এবং বাংলাদেশের তুলনায় প্রতিবেশী ভারতে তেলের উচ্চমূল্যের কারণে সেদেশে পাচার ঠেকাতেই জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।’’
সমাবেশে ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাকির হোসেন বাবলু এমপির সভাপতিত্বে দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ও সিটি করপোরেশনের প্রশাসক রুকুনোজ্জামান রোকনের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবু ওয়াহাব আন্দ ওয়াহিদ এমপি, ভালুকা আসনের এমপি ফখরুদ্দিন আহমেদ বাচ্চু, দক্ষিণ জেলা বিএনপি সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আলমগীর মাহমুদ আলম, যুগ্ম আহ্বায়ক শহিদুল আমিন খসরু।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণ জেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রিয়াজুল কবীর মামুন, সাধারণ সম্পাদক দিদারুল ইসলাম রাজু, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আজিজুল হাকিম আজিজ, সাধারণ সম্পাদক মো. রাকিব হোসেনসহ বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









