‘‘আদিবাসী জীবন ও ঐতিহ্যগত জ্ঞান সুরক্ষায় এগিয়ে আসুন’’ এ স্লোগানকে সামনে নিয়ে সাতক্ষীরার শ্যামনগরে ঐতিহ্যবাহী কারাম উৎসব পালিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার সুন্দরবন সংলগ্ন দাতিনাখালী গ্রামে এ উৎসব পালন করা হয়।
উৎসবের শুরুতে ঈশ্বরের নামে মুরগির সামনে চাল দেওয়া হয়, যা ঐ মুরগি গ্রহণ করার উপর মুন্ডারা তাদের ভাগ্য সম্পর্কে পূর্ব ধারণা লাভ করে থাকেন। মুরগী চাল খেলে সে বছর ভাল ফলন হবে; এমনটাই তাদের বিশ্বাস।
গোপাল চন্দ্র মুন্ডা, পুজারী নারায়ন চন্দ্র মুন্ডা জানান, কারাম গাছকে কেন্দ্র করে সুদীর্ঘ কাল ধরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মত শ্যামনগরে মুন্ডা সম্প্রদায় কারাম উৎসব পালন করে থাকেন।
তারা আরও জানান, প্রলয়ংকরী ঘূর্নিঝড় আইলার আঘাতের পর প্রায় এক যুগ শ্যামনগরে কারাম উৎসব পালিত হয়নি। পুনরায় নিজেদের ঐতিহ্যের ধারক কারাম উৎসব উৎযাপনের সুযোগ হওয়ায় তারা নিজেদের সৌভাগ্যবান বলে দাবি করেন।
জানা যায় উৎসবটি সাধারণত তিন দিন, পাঁচ দিন বা সাত দিনব্যাপী হয়ে থাকে। ম
আয়োজকরা জানান, রীতি অনুযায়ী চারজন কুমারী মেয়ে ও দুজন নারী পূজার সামগ্রিক কার্যক্রম সম্পন্ন করেন। কারাম মূলত একটি বৃক্ষ। এই উৎসবকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি কারাম বীজ বপনের মাধ্যমে একটি গাছ তৈরি করা হয়।
সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামসুজ্জাহান কনক। মুন্ডা সম্প্রদায়ের সংগঠন সামসের সভাপতি মি. গোপাল মুন্ডার সভাপতিত্বে ও সামসের পরিচালক কৃষ্ণপদ মুন্ডার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন ঈশ্বরীপুর যিশু নাম আশ্রমের পরিচালক ফাদার লুইজি পাজ্জি, শ্যামনগর উপজেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি সামিউল আযম মনির, গবেষক আরিফুর রহমান, আনন্দিনী মুন্ডাসহ খুলনার কয়রা, সাতক্ষীরার তালা, শ্যামনগর উপজেলার মুন্ডা সম্প্রদায়ের মাতব্বরবৃন্দ।
উৎসবে পূজারী হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন দাতিনাখালী মুন্ডা পাড়ার পাহান নারায়ন চন্দ্র মুন্ডা।
আলোচনাসভায় মুন্ডা সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে তাদের সংস্কৃতি রক্ষায় সকলকে এগিয়ে আসার আহ্বানসহ বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









