কোটালীপাড়ায় কথিত প্রেমঘটিত বিষয়কে কেন্দ্র করে স্কুলে ঢুকে সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ইউনিয়ন ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনার মাত্র একদিনের ব্যবধানে অভিযুক্ত নেতাকে সংগঠন থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে।
গত মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কোটালীপাড়ার নারিকেলবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। মারধরের শিকার সুমন মোল্লা (১৩) ওই বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। সে বাবা-মায়ের অনুপস্থিতিতে গ্রামে খালার বাড়িতে থেকে পড়াশোনা করে।
ভুক্তভোগী সুমনের অভিযোগ, ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রীকে বিরক্ত করার মিথ্যা অভিযোগে সাজ্জাদ খন্দকার স্কুল প্রাঙ্গণে এসে তাকে ডেকে নিয়ে মারধর করেন। পরবর্তীতে ওই ছাত্রীকে ডেকে আনা হলে সে সুমনের বিরুদ্ধে করা বিরক্ত করার অভিযোগ অস্বীকার করে। এরপর সাজ্জাদ বিষয়টি কাউকে না জানাতে ভয়ভীতি দেখিয়ে স্কুল ত্যাগ করেন।
এ ঘটনার পরদিন বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় কোটালীপাড়া উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক লালন শেখ ও সদস্যসচিব নিলয় হাওলাদার স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে অভিযুক্ত সাজ্জাদ খন্দকারকে সংগঠন থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়। সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
সুমনের খালু সায়েম কাজী বলেন, "শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভেতরে একজন কিশোর শিক্ষার্থীকে এভাবে মারধরের ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়, বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত হওয়া উচিত।"
অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত মো. সাজ্জাদ খন্দকারের মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তিনি রাধাগঞ্জ ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি এবং নারিকেলবাড়ি গ্রামের আলমগীর খন্দকারের ছেলে।
স্কুলে ঢুকে শিক্ষার্থীকে মারধর এবং দ্রুত সাংগঠনিক ব্যবস্থার এই ঘটনাটি পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









