ফরিদপুরে ভুয়া ওষুধ তৈরী ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ সংরক্ষণের দায়ে সাজাপ্রাপ্ত জেলা জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক বায়েজিদ হোসেন শাহেদে এর অবৈধ কারাখানায় ফের অভিযান চালিয়েছে প্রশাসন।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শাহেদের ওষুধ কারাখানা শহরের গোয়ালচামট এক নং সড়কে আমেরিকা প্রবাসী আবুল কাশেমের বাড়িতে অভিযান চালায় এসআরবি।
অভিযানে কারাখানার কর্মচারী জিল্লুর রহমানকে গ্রেপ্তারের পাশাপাশি সেখান থেকে বিপুল পরিমান কেমিক্যাল ও অবৈধ ওষুধ জব্দ করা হয়। পরে ভ্রাম্যমান আদালতে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে ২০ দিনের বিনাশ্রম কারাদন্ড দেওয়া হয় জিল্লুর রহমানকে।
তিনি রাজবাড়ী জেলার সদর উপজেলার বড়ভবানীপুর গ্রামের মোসলেম উদ্দিনের ছেলে। ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট (এনডিসি) মোঃ সাকিব রহমান আকাশ।
জানাগেছে, দীর্ঘদিন ধরে আয়ুর্বেদিক ওষুধের নামে ক্ষতিকর কেমিক্যাল ব্যবহার করে ওষুধ তৈরী করে সারাদেশে ব্যবসা করে আসছিল এনসিপি নেতা শাহেদ। গত মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ফরিদপুর শহরের মোল্লা বাড়ি সড়ক এলাকায় অবস্থিত মেসার্স জনতা ল্যাবরেটরিজে ডিপোতে অভিযান চালিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ইনসানা তানজীন ইকো এই অভিযান পরিচালনা করেন।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, শাহেদ ২০২২ সাল থেকে অবৈধভাবে এই কারখানায় শিশুদের বেবি জেল, অননুমোদিত যৌন উত্তেজক ওষুধ, গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ ও মাল্টিভিটামিন তৈরি করে আসছিলেন। ১৯৫৬ সালের অত্যাবশ্যকীয় পণ্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ৬/১ ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগে তাকে দন্ড দিয়ে ফরিদপুর জেলা কারাগারে পাঠায়।
এই ঘটনায় দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ড ও সংগঠনের নীতি-আদর্শবিরোধী কার্যক্রমে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির দপ্তর সেলের সদস্য সাদিয়া ফারজানা দিনা স্বাক্ষরিত বায়েজিদকে পাঠানো এক চিঠিতে এই বহিষ্কার করে।
ওই চিঠিতে বলা হয়,আপনার বিরুদ্ধে গুরুতর সাংগঠনিক শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ড এবং সংগঠনের নীতি ও আদর্শবিরোধী কার্যকলাপে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।
চিঠির বলা হয়,অভিযোগের তীব্রতা ও গুরুত্ব বিবেচনায় কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক জনাব মো. নাহিদ ইসলাম ও সদস্যসচিব জনাব আখতার হোসেনের নির্দেশক্রমে এবং সংগঠনের গঠনতন্ত্র ও শৃঙ্খলা বিধি অনুযায়ী আপনাকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ সকল পর্যায়ের পদ ও দায়িত্ব থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হলো।
ফরিদপুর এসআরবির কমান্ডার মেজর ফারহান মাহমুদ মোক্তাদা বলেন, “প্রথমদিন ডিপোতে অভিযান চালানোর পর এসআরবি গোয়েন্দারা কারাখানার সন্ধানে নামে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কারখানার খোঁজ পায়। আমরা জানতে পারি এখানে অবৈধভাবে তৈরী করা বিপুল পরিমান ভূয়া ওষুধ সরানো প্রক্রিয়া চালাচ্ছিল তার লোকজন। এর ভিত্তিতে অভিযান পারিচালনা করা হয়। কয়েক লাখ টাকার অবৈধ ওষুধ জব্দ করা হয়েছে। রাজশাহী, কক্সবাজার, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় এই ভূয়া ওষুধ বিক্রি করে আসছিল শাহেদ।”
নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মোঃ সাকিব রহমান আকাশ বলেন, “গত পরশু প্রথম অভিযান পরিচালনা করা হয়। সে দিন তাকে কারাদন্ড দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। আজ এসআরবির গোয়েন্দারা তার কারখানার সন্ধান খুজেঁ পায়। এখানেও বিপুল পরিমান ক্ষতিকর কেমিক্যাল পাওয়া যায়। এসব জব্দ করা হয়েছে। কারাখানার একজন কর্মচারীকে কারাদন্ড দেওয়া হয়েছে।”


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









