নারিকেলবাড়িয়া ও আমবাড়িয়ার খাড়িসংলগ্ন বঙ্গোপসাগর থেকে ২০ জেলেকে অপহরণ করেছে বনদস্যু সুমন এবং জাহাঙ্গীর বাহিনীর দস্যুরা।
সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে পৃথক দুটি স্থান থেকে ওই জেলেদের তুলে নেওয়া হয়। অপহৃত জেলেরা পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের দুবলার শুঁটকি উৎপাদন কেন্দ্রের আওতাধীন আলোরকোল ও নারকেলবাড়িয়া শুঁটকি পল্লীর জেলে বলে জানিয়েছে বনবিভাগ।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ৫টার দিকে মুঠোফোনে পূর্ব সুন্দরবনের দুবলার শুঁটকি উৎপাদন কেন্দ্রের বিশেষ টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ফরেস্ট রেঞ্জার) মিল্টন রায় জানান, সোমবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে বঙ্গোপসাগরের পৃথক স্থানে আলোরকোল ও নারকেলবাড়িয়া শুঁটকি পল্লীর জেলেরা মাছ ধরছিলেন। এমন সময় জলদস্যু সুমন ও জাহাঙ্গীর বাহিনীর দস্যুরা অস্ত্রের মুখে ২০টি ট্রলার থেকে একজন করে মোট ২০ জন জেলেকে তুলে নিয়ে যায়। যাওয়ার সময় ট্রলারের অন্য জেলেদের কাছে তাদের মোবাইল নম্বর দিয়ে যায় দস্যুরা।
অপহৃত জেলেরা হলেন, হরিদাস বিশ্বাস, গোপাল বিশ্বাস, রমেশ বিশ্বাস, প্রশান্ত বিশ্বাস, শংকর বিশ্বাস, তুষার বিশ্বাস, মনিরুল ইসলাম, উজ্জল বিশ্বাস, কালিদাস বিশ্বাস, কাশেম মোড়ল, সাধন বিশ্বাস, শিবপদ বিশ্বাস, রশিদ সরদার, প্রকাশ বিশ্বাস, ইয়াসিন মোড়ল, শিমুল, রূপকুমার বিশ্বাস, গণেশ বিশ্বাস, উত্তম বিশ্বাস ও বাটু বিশ্বাস। এদের বাড়ি খুলনার পাইকগাছা, কয়রা ও আশাশুনি এলাকায়।
দুবলা ফিশারমেন গ্রুপের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, বনদস্যুদের কয়েকটি বাহিনী সুন্দরবন ও বঙ্গোপসাগর দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। এদের দাপটে জেলেদের মাছ ধরার উপায় নেই। অপহরণের ভয়ে জেলেরা সাগরে যেতে চাচ্ছে না। দস্যুদের চাঁদা আর মুক্তিপণের টাকা দিতে দিতে ব্যবসা বন্ধ হবার উপক্রম হয়েছে অনেক ব্যবসায়ীর। এমনকি পেশা ছেড়ে দেওয়ারও চিন্তাভাবনা করছেন অনেক তারা। অপহৃত জেলেদের দ্রুত উদ্ধার এবং দস্যুদমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর অভিযানের দাবি জানান এই মৎস্যজীবী নেতা।
পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মো. শরীফুল ইসলাম ২০ জেলে অপহরণের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সুন্দরবন ও শুঁটকি পল্লীগুলোতে অবস্থানরত জেলেদের নিরাপত্তায় বনরক্ষীদের টহল কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









