বলেশ্বর নদীর পাড়ে কচুরিপানা খাচ্ছিল চারটি গরু। হঠাৎ নদীর পানি ভেঙে উঠে আসে একটি হিংস্র কুমির। মুহূর্তেই একটি গাভীর পেছনের অংশ কামড়ে ধরে সেটিকে নদীর দিকে টেনে নেওয়ার চেষ্টা করে কুমিরটি। জীবন বাঁচাতে গাভীটিও শুরু করে প্রাণপণ লড়াই।
গরুর চিৎকারে ছুটে আসেন স্থানীয় কয়েকজন। লাঠিসোটা হাতে কুমিরটিকে তাড়া করলে শেষ পর্যন্ত গাভীটিকে ছেড়ে নদীতে চলে যায় সেটি। তবে ততক্ষণে কুমিরের আক্রমণে গুরুতর আহত হয়েছে গাভীটি।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার বগী গ্রামের বলেশ্বর নদীর পাড়ে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর বলেশ্বর নদীসংলগ্ন বগী, গাবতলা ও উত্তর সাউথখালী গ্রামের কয়েক হাজার মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয়রা জানান, সুন্দরবনসংলগ্ন এসব গ্রামের মানুষের জীবনের সঙ্গে বলেশ্বর নদীর সম্পর্ক গভীর। নদীতে মাছ ও পোনা আহরণ করে অনেকে জীবিকা নির্বাহ করেন। গোসলসহ নানা দৈনন্দিন কাজেও নদীর পানি ব্যবহার করেন তাঁরা। ফলে নদীতে কুমিরের বিচরণ তাঁদের নতুন করে শঙ্কিত করে তুলেছে।
গরুর মালিক পুতুল বেগম বলেন, তার চারটি গরু নদীর পাড়ে জমে থাকা কচুরিপানা খাচ্ছিল। দুপুর ১টার দিকে হঠাৎ নদী থেকে একটি কুমির উঠে এসে একটি গাভীর পেছনের দিকে আক্রমণ করে। এরপর গাভীটিকে নদীর দিকে টেনে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। বিষয়টি দেখতে পেয়ে স্থানীয় লোকজন লাঠিসোটা নিয়ে এগিয়ে গেলে কুমিরটি গাভীটিকে ছেড়ে নদীতে চলে যায়।
কুমিরের আক্রমণে গাভীটির পেছনের অংশ মারাত্মক জখম হয়েছে। পরে শরণখোলা উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের ভেটেরিনারি চিকিৎসক মাসুম বিল্লাহ গাভীটিকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেন। তিনি বলেন, কুমিরের আক্রমণে গাভীটি বেশ জখম হয়েছে। তাকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী রাসেল ও সুজন বলেন, দুপুরে তারা কয়েকজন নদীর পাড়ে বসেছিলেন। এ সময় একটি কুমিরকে গাভীটিকে টেনে নদীর দিকে নিয়ে যেতে দেখেন। পরে কয়েকজন মিলে লাঠিসোটা নিয়ে কুমিরটিকে তাড়া করলে সেটি গাভীটিকে ছেড়ে নদীতে চলে যায়।
তাদের ভাষ্য, বগী, গাবতলা ও উত্তর সাউথখালী গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ বলেশ্বর নদীর ওপর নির্ভরশীল। নদীতে মাছ ও পোনা আহরণের পাশাপাশি গোসলসহ নানা দৈনন্দিন কাজও করেন তারা। এমন জায়গায় কুমিরের বিচরণ শুরু হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই মানুষের মধ্যে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

কুমিরের উপস্থিতির খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে বনরক্ষীদের পাঠিয়েছে পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের বন বিভাগ। রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মো. শরীফুল ইসলাম বলেন, গরুর ওপর কুমিরের হামলার খবর পেয়ে বনরক্ষীদের ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। কুমিরটির গতিবিধি পর্যবেক্ষণের জন্য সেখানে বন বিভাগের একটি টিম রাখা হয়েছে।
তিনি সংশ্লিষ্ট গ্রামবাসীকে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।
সুন্দরবনের কোলঘেঁষা জনপদে মানুষ ও বন্যপ্রাণীর এমন মুখোমুখি অবস্থান নতুন নয়। তবে জীবিকার প্রয়োজনে প্রতিদিন নদীতে নামতে হয় যেসব মানুষকে, তাদের কাছে কুমিরের এই উপস্থিতি বাড়তি উদ্বেগের। এখন বলেশ্বর নদীর পাড়ের তিন গ্রামের মানুষের চোখ তাই নদীর পানির দিকে—কখন আবার ভেসে ওঠে সেই কুমির।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









