পিরোজপুরের নেছারাবাদে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দকৃত স্কুল ফিডিং কর্মসূচির ৩০ প্যাকেট দুধ চুরির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজন যুবকের বিরুদ্ধে। অতিথি আপ্যায়নে শিক্ষকদের ব্যস্ততার সুযোগ নিয়ে এই চুরির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার পাশাপাশি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে লিখিতভাবে জানানোর প্রক্রিয়া চলছে।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের ১৪৮ নম্বর দক্ষিণ বিন্না কাইলান্তরি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত গত শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিন্না খালে নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা উপলক্ষে পুলিশ ও স্থানীয় কয়েকজন নেতাকর্মী বিদ্যালয়ে আসেন। অতিথিদের বসার ব্যবস্থা ও আপ্যায়নের জন্য বিদ্যালয় খুলে দেওয়া হয়। এ সময় শিক্ষকরা অতিথিদের আপ্যায়নে ব্যস্ত ছিলেন। এই সুযোগে প্রধান শিক্ষক ওয়াশরুমে গেলে লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত শিশু শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ ৭৯ প্যাকেট দুধের মধ্য থেকে ৩০ প্যাকেট সরিয়ে নেওয়া হয়।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নুরুল ইসলাম জানান, পরদিন শিশুদের টিফিনের সময় দুধ বিতরণ করতে গিয়ে ৩০ প্যাকেট কম দেখতে পান তিনি। পরে স্থানীয়দের ও শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে জানতে পারেন, স্থানীয় কয়েকজন যুবক দুধগুলো নিয়ে বিদ্যালয়ের আশপাশেই বসে খেয়েছেন। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, মাসের শেষ দিনে এসে ৩০ প্যাকেট দুধের ঘাটতি কীভাবে পুষিয়ে দেবেন, তা নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।
অভিযুক্তদের মধ্যে স্থানীয় ‘বিন্না ইয়ংমেন্স ক্লাবের’ সাংস্কৃতিক সম্পাদক মো. নাদিম মাহমুদ ও তার বন্ধু মো. রাশেদের নাম উঠে এসেছে। তবে মো. নাদিম মাহমুদ ৩০ প্যাকেট দুধ চুরির অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, তিনি এবং তার বন্ধুরা মিলে মাত্র তিন প্যাকেট দুধ নিয়ে খেয়েছেন। তিনি বলেন, “আমরা ভেবেছিলাম দুধগুলো শিক্ষকদের। পরে জানতে পেরেছি এগুলো শিশুদের জন্য বরাদ্দ ছিল।”
নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতার আয়োজক ও ‘বিন্না ইয়ংমেন্স ক্লাবের’ সাধারণ সম্পাদক মো. মহিবুল্লাহ জানান, নাদিম ও তার বন্ধুরা যে তিন প্যাকেট দুধ খেয়েছেন, বিষয়টি তিনি শুনেছেন। তবে সেগুলো যে শিশুদের জন্য বরাদ্দ ছিল, তা তাদের জানা ছিল না বলে দাবি করেন তিনি।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা মোসা. আশা বলেন, গত শুক্রবার অতিথিদের আপ্যায়নে শিক্ষকরা যখন ব্যস্ত ছিলেন, সেই সুযোগেই নাদিমসহ স্থানীয় চার যুবক লাইব্রেরিতে ঢুকে ৩০ প্যাকেট দুধ নিয়ে যান।
এ বিষয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শিশুদের বরাদ্দকৃত খাবার আত্মসাৎ ও চুরির এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য থানায় জিডি করা হয়েছে এবং উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে লিখিতভাবে বিষয়টি অবহিত করা হচ্ছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









