আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি এবং দেশের বাজারে এর প্রকৃত প্রভাব যাচাই করে ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সিলেট সদর উপজেলার কানশাইলে সুরমা নদীর তীর প্রতিরক্ষা কাজের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, ‘‘আন্তর্জাতিক বাজারে সংশ্লিষ্ট পণ্যের মূল উৎসমূল্য বেড়েছে কি না, তা আগে পরীক্ষা করে দেখা হবে। উৎপাদনকারী ও আমদানিকারক পর্যায়ে প্রকৃত ব্যয় কত এবং সেই মূল্যবৃদ্ধির কী ধরনের প্রভাব দেশের বাজারে পড়ছে, সেটিও যাচাই করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারের মূল্য, দেশের সরবরাহ পরিস্থিতি ও ভোক্তা পর্যায়ের দামের মধ্যে সামঞ্জস্য আছে কি না, তা বিশ্লেষণ করেই যৌক্তিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’’
নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার বিষয়ে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ‘‘কোনো পণ্যের দাম বাড়লেই শুধু সরবরাহব্যবস্থাকে দায়ী করা ঠিক হবে না। উৎপাদন, সরবরাহ ও মৌসুমি পরিবর্তনের বিষয়ও বিবেচনায় নিতে হবে।’’
তিনি বলেন, ‘‘সেপ্টেম্বরের শেষ সময়ে শীতকালীন সবজি বাজারে ওঠার আগের সময় হওয়ায় কিছু সবজির সরবরাহ কম থাকতে পারে। কয়েক সপ্তাহ পর শীতের সবজি বাজারে উঠলে পরিস্থিতির পরিবর্তন হতে পারে। ডিমের উৎপাদন ও চাহিদার ক্ষেত্রেও মৌসুমি প্রভাব রয়েছে। অতিরিক্ত গরমে মুরগির ডিম উৎপাদন কমার পাশাপাশি নষ্ট হওয়ার প্রবণতা বাড়ে। ফলে সাময়িকভাবে সরবরাহে চাপ তৈরি হতে পারে।’’
বাণিজ্যিমন্ত্রী বলেন, ‘‘সরবরাহব্যবস্থা স্বাভাবিক থাকার পরও কোনো পণ্যের দাম বাড়লে বিষয়টি অবশ্যই খতিয়ে দেখতে হবে।’’
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, ‘‘পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নয়নের চেষ্টা চলছে। আইনশৃঙ্খলা স্থিতিশীল হলে দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তারা নতুন বিনিয়োগে আরও উৎসাহিত হবেন।’’
এর আগে বেলা ১২টার দিকে সিলেট সদর উপজেলার কানিশাইলে ‘সুরমা-কুশিয়ারা নদী অববাহিকার উন্নয়ন এবং বন্যা ও সমন্বিত পানি ব্যবস্থাপনা’ প্রকল্পের কাজের উদ্বোধন করেন মন্ত্রী।
এ সময় তিনি বলেন, ‘‘সুরমা নদীর ভাঙন প্রতিরোধে পর্যায়ক্রমে তীর প্রতিরক্ষা কাজ বাস্তবায়ন করা হবে। মীরের চক এলাকায় ৩০০ মিটার, মেহন্দিবাগে ৪০০, কানিশাইলে ৫৫০, টোকের বাজারে ৫০০ এবং মীরেরগাঁওয়ে ৫০০ মিটার নদীতীর প্রতিরক্ষা কাজ করা হবে।’’
তিনি আরও বলেন, ‘‘সিলেটের বন্যা ও জলাবদ্ধতা নিরসনে বড় প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এর আওতায় সুরমার উভয় তীরে প্রায় ১৭ কিলোমিটার করে বাঁধ ও সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।’’
এ সময় সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেটের জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী প্রবীর কুমার গোস্বামী, সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন ও সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









