জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বকে প্রাধান্য দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। একই সঙ্গে তিনি নতুন গণতান্ত্রিক সরকারের বিভিন্ন নীতি ও কর্মসূচি বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরেছেন বলেও জানান তিনি।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক সফর নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন মাহদী আমিন।
তিনি বলেন, সংক্ষিপ্ত এই সফরে প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে মোট ৩০টি কর্মসূচিতে অংশ নেন। এর বাইরে আরও কয়েকটি বৈঠক অনানুষ্ঠানিকভাবে অনুষ্ঠিত হয়। সফরে ১১টি দেশের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী।
দেশগুলোর মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ার পাকিস্তান, ভুটান ও মালদ্বীপ; মধ্যপ্রাচ্যের কুয়েত, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইরান; এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের থাইল্যান্ড; ইউরোপের তুরস্ক ও ক্রোয়েশিয়া এবং ক্যারিবীয় অঞ্চলের হাইতি ছিল। এসব দেশের সঙ্গে বৈঠকে সমতা, ন্যায্যতা ও মর্যাদার ভিত্তিতে কীভাবে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক গড়ে তোলা যায়, সে বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী তুলে ধরেছেন বলে জানান মাহদী আমিন।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী ডেলিগেশনের সদস্যরাও চার দিনে প্রায় ৫০টি বৈঠকে অংশ নেন। সব মিলিয়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ৪০টির বেশি দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মাহদী আমিন জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের মহাসচিবের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। সেখানে জাতিসংঘ মহাসচিব বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সরকারের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীকে নির্বাচনে বিজয়ের জন্য অভিনন্দন জানান এবং বাংলাদেশের এই গণতান্ত্রিক বিজয়কে সাধুবাদ জানান।
বাংলাদেশের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অনবদ্য ভূমিকার জন্য জাতিসংঘ মহাসচিব বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানিয়েছেন বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় দেওয়ার জন্য বাংলাদেশকে ধন্যবাদ জানান এবং সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনারও প্রশংসা করেন।
প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশবিষয়ক নীতিমালাও বিশ্ববাসীর সামনে বিস্তৃতভাবে তুলে ধরা হয়েছে বলে জানান মাহদী আমিন। তিনি বলেন, আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ এবং প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের লক্ষ্যমাত্রা, পদ্মা ব্যারেজ ও তিস্তা মহাপরিকল্পনাসহ বিভিন্ন উদ্যোগের কথা প্রধানমন্ত্রী তুলে ধরেছেন।
মাহদী আমিন বলেন, বিশ্বনেতাদের কাতারে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেছেন।
আন্তর্জাতিক পরিসরে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় স্বার্থ অটুট রেখেছেন উল্লেখ করে মাহদী আমিন বলেন, প্রতিটি দেশের সঙ্গে বাংলাদেশ অংশীদারত্ব, বিনিয়োগ ও বাণিজ্য চায়। এর মাধ্যমে দেশের স্বনির্ভরতা ও স্বাবলম্বিতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রতিটি মানুষের অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
তিনি আরও বলেন, বৈশ্বিক কূটনীতিতে বাংলাদেশের মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর দৃঢ় প্রত্যয় রয়েছে। সমতা ও ন্যায়বিচারের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশ একটি ভিন্ন মাত্রায় পৌঁছেছে বলে তারা বিশ্বাস করেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









