প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘স্বৈরাচার’ ও ‘গুপ্ত’ আবার একসঙ্গে হয়েছে। তিনি বলেন, স্বৈরাচার পালিয়ে যাওয়ার কয়েকদিন পরই দেখা গেছে, গুপ্ত বাহিনীর লোকজন বলেছে—‘তারা যদি আসে, থাকে, কাজ করে আমাদের কোনো আপত্তি নাই।’ আপত্তি থাকবে কীভাবে, বরাবরই তো তারা একসঙ্গে ছিল।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিকেলে ফেনীর ফুলগাজী সরকারি পাইলট হাইস্কুল মাঠে আয়োজিত জনসভায় তিনি এ কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, ‘‘৯১ সালেও তারা একসঙ্গে ছিল, ৮৬ সালেও একসঙ্গে ছিল, গত নির্বাচনের সময়ও তারা একসঙ্গেই ছিল। তলে তলে কাজ করেছিল। এজন্যই তো তাদের গুপ্ত বলা হয়।’’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘গত ১৭ বছর বিএনপির নেতাকর্মীরা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তারা জেল-জুলুম, হত্যা ও গায়েবি মামলার শিকার হয়েছেন।’’
এ সময় তিনি উপস্থিত জনতার উদ্দেশে প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘‘শুনেছেন তাদের কেউ এসবের শিকার হয়েছিল? আপনারাও তো মাঠে নেমে এসেছিলেন, হরতাল, মিছিল-মিটিং করেছিলেন, তাদের কাউকে দেখেছিলেন? তারা রাজপথে কেউ ছিল না।’’
তিনি বলেন, কিছুদিন ধরে দেশের কিছু মানুষ অরাজকতা তৈরির চেষ্টা করছে। ‘এক দফা, এক দফা’ বলে তারা কর্মসূচি দিচ্ছে। অথচ বর্তমান সরকার যেসব কর্মসূচি নিয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়ন হলে সাধারণ ও খেটে খাওয়া মানুষের উপকার হবে।
তারেক রহমান বলেন, যারা ‘এক দফা, এক দফা’ বলছে অথবা যারা দেশ থেকে পালিয়ে গেছে, যাদের বিরুদ্ধে মানুষ আন্দোলন করেছিল, যারা মানুষের কথা বলার অধিকার ও ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছিল—তাদের কি ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি আছে? তাদের কি খালকাটা কর্মসূচি আছে? কৃষক কার্ড আছে? বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি আছে? ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানির ব্যবস্থা আছে? উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ৫০ থেকে ১৫০ শয্যায় উন্নীত করার কর্মসূচি আছে?
‘‘তাহলে তারা কিসের রাজনীতি করে? মানুষের কর্মসূচি কই?’’—প্রশ্ন রাখেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, দেশের মানুষ এখন নিজেদের ভাগ্যের পরিবর্তন চায়। কেউ খারাপ অবস্থায় সবসময় থাকতে চায় না। মানুষ তার অবস্থার পরিবর্তন করতে চায়। ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে মা-বোনদের সহযোগিতা, ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ অন্যান্য ধর্মীয় ব্যক্তিদের ন্যূনতম সহযোগিতা এবং কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষকদের সহায়তা পৌঁছে দেওয়া গেলে ধীরে ধীরে মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, অর্থনৈতিকভাবে মানুষ স্বচ্ছল হয়ে উঠলে বাংলাদেশও অর্থনৈতিকভাবে স্বচ্ছল হবে।
তিনি বলেন, বিএনপি ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন করতে চায়, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানী চালু করতে চায়, কৃষক কার্ডের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে চায়। পাশাপাশি খাল খনন এবং বন্ধ মিল-কারখানা চালু করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
তারেক রহমান বলেন, অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের এসব কর্মসূচি দেখা গেছে কি না। যদি না দেখা যায়, তাহলে যারা দেশে অরাজকতা ও বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করছে, তাদের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে।
এ সময় তিনি নির্বাচনের আগে একটি দলের ‘বেহেশতের টিকিট’ বিক্রির প্রচারের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বেহেশত-দোজখের মালিক একমাত্র আল্লাহ রাব্বুল আলামিন। আল্লাহ যা দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন, তা কোনো মানুষ দেওয়ার কথা বলতে পারে কি না—এমন প্রশ্নও রাখেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, যারা গুপ্ত রাজনীতি ও স্বৈরাচারী রাজনীতি করে এবং জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তনে যাদের কোনো কর্মসূচি নেই, শুধু ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য রাজনীতি করে, তাদের ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক ও সচেতন থাকতে হবে।
তারেক রহমান বলেন, তারা যদি দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পায়, জনগণের জন্য কোনো কর্মসূচি গ্রহণ করবে না। জনগণের উপকারে তাদের কোনো কর্মসূচি থাকলে তা তারা তুলে ধরতে পারত। কিন্তু এখন পর্যন্ত জনগণের উপকার হয়—এমন কোনো কর্মসূচির কথা তারা তুলে ধরতে পারেনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি সরকার প্রমাণ করেছে তারা জনগণের জন্য কাজ করে। কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে বিএনপি যা বলে, তা বাস্তবায়নের চেষ্টা করে—এটিও তারা প্রমাণ করেছে। দলের কর্মসূচির মাধ্যমে বিএনপি সবসময় জনগণের জন্য কর্মসূচি গ্রহণ করে বলেও দাবি করেন তিনি।
এর আগে সভার শুরুতে প্রধানমন্ত্রী ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বিতরণ করেন। একই সঙ্গে বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের সম্মানী প্রদান করেন।
সভা শেষে ফুলগাজীর জেলা পরিষদ ডাকবাংলোয় রুফটপ সোলার থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।
এর আগে দুপুর আড়াইটার দিকে ফেনী সফরের কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী প্রথমে পরশুরামে মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের উদ্বোধন ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। পরে ফুলগাজীর বেগম খালেদা জিয়া মহিলা কলেজ প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









