কুষ্টিয়া জেলায় দিন দিন ডেঙ্গু পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে। চলতি বছর জেলায় মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা তিনশ ছাড়িয়ে ৩২৬ জনে দাঁড়িয়েছে। প্রতিদিন নতুন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায় স্থানীয় স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের ওপর চাপ বৃদ্ধির পাশাপাশি জনমনেও উদ্বেগ বাড়ছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের খুলনা বিভাগীয় পরিচালকের (স্বাস্থ্য) কার্যালয় থেকে প্রকাশিত দৈনিক ডেঙ্গু রিপোর্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, কুষ্টিয়া জেলার বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে বর্তমানে ২৬ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৩ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, এখন পর্যন্ত জেলায় ডেঙ্গুতে কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। তবে আক্রান্তদের মধ্যে কয়েকজনের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ৬ জন রোগীকে ঢাকার বিভিন্ন বিশেষায়িত হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে। অন্যদিকে, চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ২১৪ জন রোগী।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, ডেঙ্গুর সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় সরকারি হাসপাতালগুলোতে বিশেষ প্রস্তুতি ও ‘ডেঙ্গু কর্নার’ কার্যকর রাখা হয়েছে। আক্রান্ত রোগীদের সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখা হচ্ছে।
এদিকে স্বাস্থ্যবিদ ও বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, হাসপাতালে ভর্তিকৃত রোগীর সংখ্যা যেভাবে বাড়ছে, তাতে এখনই কার্যকর ও কঠোর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করতে পারে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে দ্রুত পৌরসভা ও স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে মশা নিধন অভিযান জোরদার করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে আরও বেশি সচেতন হওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। এডিস মশার বংশবৃদ্ধি রোধে বাসাবাড়ি, আঙিনা কিংবা ফুলের টবে জমে থাকা পানি তিন দিনের বেশি জমতে না দেওয়া এবং নিয়মিত মশারি ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









