সের্ন্টমার্টিনসহ টেকনাফের সমুদ্র সৈকত ও নাফনদীর তীরসহ বিভিন্ন গ্রাম এবং সমুদ্র উপকূলে কাঁচা মাছকে রোদে শুকিয়ে শুঁটকি মাছ উৎপাদন করছেন স্থানীয় শুঁটকি ব্যবসায়ীরা। বর্তমানে উৎপাদনের ধুম চলছে।
সের্ন্টমাটিনের সৈকত পাড়ে, শামলাপুর সৈকতের পাড়ে, বাহাছড়ার সৈকত এলাকায়, টেকনাফ সদর ইউনিয়নের বরইতলী নাফনদীর তীরে, গোদালবিলের খালের পাড়ে, পৌর এলাকার খায়ুকখালী খালের তীরে, শাহপরীরদ্বীপ জালিয়াপাড়ার নাফনদীর পাড়ে, পৌরসভার উত্তর জালিয়াপাড়া, চৌধুরীপাড়া, দক্ষিন জালিয়াপাড়াসহ প্রায় ২০টির বেশি মহালে শুঁটকি উৎপাদন চলছে। তাছাড়া ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা উপজেলার ৮/১০টি গ্রামে শুঁটকি তৈরি করে থাকে। জেলেরা সমুদ্র থেকে ফিশিং বোট, বড় ট্রলার, ও ছোট ছোট কাঠের নৌকা নিয়ে মাছ শিকার শেষে ঘাটে আসার পর শুটঁকি ব্যবসায়ীরা সেই মাছ ক্রয় করে নিজ নিজ শুঁটকি মহালে নিয়ে যায়। পরে তারা মাছগুলো ভাল করে ধুয়ে শুঁটকি করার জন্য সমুদ্র সৈকতে পাড়ে ও নাফনদের তীরসহ বিভিন্ন স্থানে বাঁশের তৈরি মাচায় ও ভিন্ন ভিন্ন কৌশলে রোদে দেন শ্রমিকেরা। এর মধ্যে বেশির ভাগ বড় ছুরি, ছুরি টেইট্যা, নাইল্ল্যা, পটপরি, ছাবা, ছিছিরি, টিপ ফাইস্যা, কুর ফাইস্যা, রাম ফাইস্যা, দাম্মা ফাইস্যা, মধু ফাইস্যা, কানা ফাইস্যা, গুরা ফাইস্যা, পোঁপা, গুরা পোঁপা, চকপুলা, মাইট্যা, ছামিলা, ও রূপচান্দাসহ বিভিন্ন প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ শুঁটকি করে থাকে। এই শুঁটকি উৎপাদন আগামী তিন থেকে চার মাস পর্যন্ত থাকবে।
শুঁটকি উৎপাদনকারী মো. ইলিয়াছ জানান, অন্য বছরের ছেয়ে এই বছর শুঁটকি ব্যবসায়ী বেড়ে গেছে। তাই বেশি দাম দিয়ে মাছ কিনতে হচ্ছে। তাছাড়া শুঁটকি উৎপাদনের জায়গাও সংকুচিত হয়ে পড়েছে। তাই আমি এবার ঘাট থেকে মাছ ক্রয় করে সদর ইউনিয়নের বরইতলী এলাকার নাফনদের তীরে বাঁশের তৈরি মাচাঁয়, ছাউনি না দিয়ে বাশেরঁ ঘর ও বিভিন্নœ কৌশলে শুঁটকি উৎপাদন করছি। কিন্তু আগের তুলনায় মাছ কম দামে বিক্রি হচ্ছে। নাফনদের তীরে খুব সহজে শুটঁকি উৎপাদন করা যায়। কারন বাতাশ ও রোদ এক সাথে পাওয়ায় মাছগুলো খুব সহজে শুকিয়ে যায়।
শুঁটকি ব্যবসায়ী দক্ষিণ জালিয়া পাড়ার মো. সিরাজুল ইসলাম (৩০) বলেন, শীতে যে শুঁটকি উৎপাদিত হয়, তার কদর দেশব্যাপী। তাই আমি গত এক সপ্তাহে পৌর এলাকার খায়ুকখালী ঘাট থেকে প্রায় ৮০০ মণের মত কাচাঁ মাছ কিনে শুঁটকি করা হচ্ছে। এর মধ্যে কিছু শুঁটকি মাছ চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে আড়তে পাঠানো হয়েছে। অন্যন্য বছরের ছেয়ে এই বছরে শুঁটকি মাছের দাম একটু কম পাওয়া যাচ্ছে। সে তুলনায় আগের বছর চট্রগ্রামে খাতুনগঞ্জে আড়তে শুঁটকি ছুরি ৮০০/৯০০ টাকা, ফাইস্যা ২০০/২৫০ বিক্রি হত। বর্তমানে তা প্রতি কেজি ছুরি শুঁটকি বিক্রি হচ্ছে ৭০০ আর ফাইস্যা ১৮০ টাকা লইট্যা ৪০০ পোপা ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
সের্ন্টমাটিন শুঁটকি ব্যবসায়ী আবদু শুকুর জানান, ঘাট থেকে কাচাঁ মাছ কিনে সের্ন্টমাটিন সমুদ্র সৈকতের পাড়ে রোদে দিয়ে শুঁটকি উৎপাদন করা হচ্ছে। তাছাড়া প্রতিদিন দুই হাজারের বেশি দেশি-বিদেশী পর্যটকেরা সের্ন্টমাটিনে ভ্রমণে আসেন। যাওয়ার সময় তারা কিছু না কিনলেও বাড়ির জন্য কয়েক কেজি করে শুঁটকি কিনে নেন। চট্রগ্রামে শুঁটকির দাম কম হলেও এখানে বেশি দামে বিক্রি করতে পারছি। তাছাড় হোটেল-রেস্তোরাঁয়ও পর্যটকের জন্য খাবারের সঙ্গে শুঁটকির ভর্তা রাখতে হয়। শুঁটকির চাহিদা সের্ন্টমাটিনে একটু বেশি থাকায় শুঁটকির জোগান দিতে স্থানীয় অনেক ব্যবসায়ী টেকনাফ থেকে শুঁটকি নিয়ে চড়া মূল্যে বিক্রি করছেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









