ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী ইশতেহারে শ্রম অধিকার অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যে ১৫ দফা সংবলিত একটি ‘শ্রমিক ইশতেহার’ পেশ করেছে ‘শ্রমিক অধিকার জাতীয় এডভোকেসি এলায়েন্স’।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই ইশতেহারের বিস্তারিত তুলে ধরা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে এলায়েন্সের সদস্য সচিব ও বিলস নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহম্মদ ইশতেহারের বিষয়বস্তু উপস্থাপন করেন। এতে সভাপতিত্ব করেন এলায়েন্সের আহ্বায়ক ও বিলস মহাসচিব নজরুল ইসলাম খান।
ইশতেহারে ১৫ দফা সুপারিশ
শ্রমিকদের আইনি সুরক্ষা ও জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে ঘোষিত ১৫ দফা সুপারিশের প্রধান দিকগুলো হলো:
আইনি স্বীকৃতি ও সুরক্ষা: শ্রম আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধনীর মাধ্যমে সকল শ্রমিকের নিবন্ধন ও আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করা।
মর্যাদাপূর্ণ মজুরি: সকল শ্রমিকের জন্য জীবন বিকাশের উপযোগী ও ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করা।
সামাজিক সুরক্ষা: শ্রমিকদের জন্য রেশন, আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
মাতৃত্বকালীন ছুটি: সকল নারী শ্রমিকের মাতৃত্বকালীন ছুটি সবেতনে ৬ মাসে উন্নীত করা।
নিরাপদ কর্মপরিবেশ: কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, দুর্ঘটনার ক্ষতিপূরণ বৃদ্ধি এবং তদন্ত প্রতিবেদন জনসম্মুখে প্রকাশ।
ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার: ইপিজেডসহ সকল ক্ষেত্রে শ্রমিকদের সংগঠন করা ও দরকষাকষির অধিকার নিশ্চিত করা।
জাতীয় স্থায়ী শ্রম কমিশন: শ্রমক্ষেত্রে সংকট মোকাবিলা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে একটি স্থায়ী জাতীয় শ্রম কমিশন গঠন।
বৈষম্য ও সহিংসতা বিলোপ: কর্মক্ষেত্রে সম-অধিকার নিশ্চিত করা এবং সকল ধরনের হয়রানি ও সহিংসতা বন্ধ করা।
শিশুশ্রম নিরসন: শিশু-কিশোর শ্রম বন্ধে কার্যকর রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা গ্রহণ।
অভিবাসী ও ডিজিটাল অধিকার: অভিবাসী শ্রমিকদের সুরক্ষা এবং চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের (অটোমেশন) চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ‘ন্যায্য রূপান্তর’ নিশ্চিত করা।
এলায়েন্সের আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘এই ইশতেহার কেবল রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে হস্তান্তর করেই আমরা ক্ষান্ত হবো না। এটি সারা জাতির কাছে তুলে ধরা হবে যাতে শ্রমজীবী মানুষের কল্যাণ নিয়ে একটি জাতীয় ঐক্য ও উপলব্ধি তৈরি হয়। তিনি রাজনৈতিক দলগুলোকে কেবল ভোটের জন্য নয়, বরং টেকসই উন্নয়নের স্বার্থে এই দাবিগুলো ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানান।’
এলায়েন্সের সদস্য সচিব সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহম্মদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘দেশের প্রতিটি আন্দোলনে শ্রমিকরা রক্ত দেন, তাদের অবদান সবচেয়ে বেশি। অথচ ক্ষমতার পরিবর্তনের পর শাসকরা শ্রমিকদের কথা ভুলে যান।’
তিনি আরও বলেন, ‘জাতীয় ন্যূনতম মজুরি ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা না হলে বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়া সম্ভব নয়।’
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২০২৬ সালের নির্বাচনে অংশ নেওয়া দলগুলো যদি এই সুপারিশগুলো গ্রহণ করে, তবে বাংলাদেশ একটি ‘প্রতিযোগী বাংলাদেশ’ হিসেবে বিশ্বের বুকে দাঁড়াতে পারবে। শ্রমিকদের উপেক্ষা করে কোনো জাতীয় পরিকল্পনা সফল হওয়া সম্ভব নয় বলে এলায়েন্স নেতারা হুঁশিয়ারি দেন।
সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন জাতীয় শ্রমিক জোটের সভাপতি মেসবাহউদ্দীন আহমেদ, শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদের আব্দুল কাদের হাওলাদার, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, সম্মিলিত গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি নাজমা আক্তারসহ অন্যান্য ট্রেড ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দ।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









