চাঁপাইনবাবগঞ্জে স্কুল শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টার দায়ে শিক্ষককে ৫ বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন আদালত।
সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে চাঁপাইনবাবগঞ্জের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) মাইনুদ্দিন হিরা এ রায় দেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত শিক্ষকের নাম গোলাম কবির। তিনি ছত্রাজিতপুর ইউনিয়নের কাঠালিয়াপাড়ার মৃত তাজেমুল হকের ছেলে। রায় ঘোষণার সময় তিনি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণ থেকে জানা যায়, ছত্রাজিতপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে স্কুল শিক্ষার্থীকে কু-প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন একই বিদ্যালয়ের শরীরচর্চা বিষয়ের শিক্ষক গোলাম কবির। ২০২২ সালের ২১ আগস্ট বিদ্যালয় চলাকালীন সময়ে অভিযুক্ত শিক্ষকের কাছে জীব-বিজ্ঞান বই চাইলে ২৩ আগস্ট বিকেলে ছাত্রীকে স্কুলে আসতে বলেন। শিক্ষকের কথা মতো স্কুল গেলে তাকে শিক্ষক কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্টের অফিস কক্ষে নিয়ে যান। সে সময় অফিস কক্ষের দরজা জানালা বন্ধ করে জোরপূর্বক ধর্ষনের চেষ্টা করেন।
এসময় স্থানীয়রা তাকে আটক করে ‘গণধোলাই’ দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। ওই দিনই ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রীর চাচা শিবগঞ্জ থানায় তার বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা করেন। মামলার তদন্ত শেষে একই বছরের ২০ সেপ্টেম্বর আসামি গোলাম কবিরের নামে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন তদন্তকারি কর্মকর্তা এসআই আব্দুল গণি। পরে আদালতে দশজন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। সাক্ষ্যপ্রামাণ ও শুনানি শেষে আদালত এই রায় দেন।
বাদীর আইনজীবী এম আব্দুস সালাম বলেন, ধর্ষণ চেষ্টা অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আসামিকে ৫ বছর কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে ৫ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও তিন মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ওই সময়ের আলোচিত ঘটনা এটি। এ রায়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটির শুনানি করেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনাল-এর সরকারি কৌঁসুলি রবিউল হক দোলন। আসামি পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন আইনজীবী নাজমুল আজম।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









