উপকূলীয় নদী বলেশ্বরের বুকে শেষ মুহূর্তে জালে ধরা দিচ্ছে ঝাঁকে ঝাঁকে রূপালি ইলিশ। ট্রলারভর্তি মাছ আর হাঁক-ডাকে ঘাটগুলোতে সাময়িক প্রাণচাঞ্চল্য ফিরলেও তলে তলে নদীর পাড়ে ঘনিয়ে আসছে গভীর নীরবতা। মা ইলিশের প্রজনন সুরক্ষায় বুধবার (৮ অক্টোবর) মধ্যরাত থেকেই শুরু হচ্ছে টানা ২২ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা। ফলে ক্ষণিক স্বস্তির আড়ালে উপকূলজুড়ে এখন জেলে পরিবারগুলোর মাঝে বোবা কান্না আর অনিশ্চয়তার ছাপ।
মৎস্য বিভাগ জানায়, ইলিশের নির্বিঘ্ন প্রজনন নিশ্চিত করতে আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার বলেশ্বর নদীসহ সংলগ্ন সকল উপকূলীয় জলাশয়ে ইলিশসহ সব ধরনের মৎস্য আহরণ, কেনাবেচা, পরিবহন ও মজুত পুরোপুরি বন্ধ থাকবে।
নিষেধাজ্ঞা শুরুর প্রাক্কালে বলেশ্বরে মাছের তরী ভিড়তেই ঘাটজুড়ে শুরু হয় পাইকার ও আড়তদারদের প্রতিযোগিতা। তবে বাজারে ইলিশের সরবরাহ কম এবং চাহিদা বেশি থাকায় দাম ছিল চড়া। ১ কেজি ও তদূর্ধ্ব ওজনের ইলিশ: বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি প্রায় ৩,০০০ টাকায়। ৫০০ থেকে ৭০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ বিকোচ্ছে ১,২০০ থেকে ১,৫০০ টাকা কেজি দরে। নিষেধাজ্ঞাকালীন বাজারে ইলিশ পাওয়া যাবে না এমন ভাবনায় শেষ মুহূর্তে চড়া দাম দিয়েই পছন্দের ইলিশ সংগ্রহ করছেন ক্রেতারা।
ঋণের কিস্তি আর জীবিকার অনিশ্চয়তা শেষ কদিনের ভালো শিকারে জেলেদের পকেটে কিছু নগদ অর্থ এলেও সামনে ২২ দিন আয়-রোজি বন্ধ থাকার ভাবনায় তাদের চোখ-মুখ চিন্তিত। মহাজনের দাদন আর এনজিওর সাপ্তাহিক কিস্তির তাগাদায় দিশেহারা নদীপাড়ের খেটে খাওয়া মানুষগুলো।
উপকূলীয় জেলেরা জানান, কর্মহীন এই দীর্ঘ সময়ে সরকারি চাল ও মানবিক সহায়তা যদি সঠিক সময়ে প্রকৃত নিবন্ধিত জেলেদের হাতে না পৌঁছায়, তবে পরিবার-পরিজন নিয়ে অনাহারে দিন কাটাতে হবে। তারা কোনো প্রকার অনিয়ম ছাড়া দ্রুত সরকারি সাহায্য বরাদ্দের দাবি জানান।
মঠবাড়িয়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক বলেন, মা ইলিশকে নির্বিঘ্নে ডিম ছাড়ার সুযোগ দেওয়াই আমাদের মূল উদ্দেশ্য। প্রজনন মৌসুমে ইলিশ রক্ষা পেলে ভবিষ্যতে নদীতে মাছের উৎপাদন বহুগুণ বাড়বে, যা প্রকারান্তরে জেলেদের ভাগ্য বদলাবেই। তিনি আরও সতর্ক করে জানান, আইন অমান্য করে কেউ নদীতে নামলে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে নদী ও বাজারগুলোতে সার্বক্ষণিক তীক্ষ্ণ নজরদারি রাখা হচ্ছে। নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড, নৌ পুলিশ ও মৎস্য অধিদপ্তরের যৌথ টিম দিন-রাত অভিযান পরিচালনা করবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









