রবিবার, ০১ মার্চ ২০২৬, ১৬ ফাল্গুন ১৪৩২

The Daily Adin Logo
The Daily Adin Logo

লেবু-শসায় আগুন, ক্রেতাদের ক্ষোভ

দিনাজপুর (বীরগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৬:৪৫ পিএম

আপডেট: ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৬:৪৫ পিএম

লেবু-শসায় আগুন, ক্রেতাদের ক্ষোভ

দিনাজপুরের বীরগঞ্জ পৌরশহরের কাঁচাবাজারে লেবু ও শসার দাম অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পেয়েছে। ইফতারির অপরিহার্য উপকরণ লেবু, কাঁচা মরিচ ও শসা এই তিন পণ্যের চাহিদা বাড়তেই বাজারে যেন ‘আগুন’ লেগেছে। ফলে সাধারণ ও নিম্নআয়ের মানুষ পড়েছেন চরম বিপাকে।

বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) বীরগঞ্জ পৌরশহরের কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, কয়েক দিন আগেও যে লেবুর হালি ১৫-২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল, বর্তমানে ৫০-৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আকারভেদে কোথাও কোথাও দাম আরও বেশি। শসা প্রতি কেজি ৩০-৪০ টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬০-৮০ টাকায়। কাঁচা মরিচও বিক্রি হচ্ছে ১২০-১৬০ টাকা কেজি দরে, যা গত সপ্তাহের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, পাইকারি বাজারেই দাম বেড়েছে। ফলে খুচরা পর্যায়ে বাড়তি দামে বিক্রি ছাড়া উপায় নেই। 

ক্রেতারা বলছেন, প্রতি বছর রোজাতে একই চিত্র দেখা যায়, চাহিদা বাড়লেই দাম বাড়ে।

রোজার মাসে ইফতারির টেবিলে লেবু, শসা ও কাঁচা মরিচ অপরিহার্য। ছোলা, পেঁয়াজু, বেগুনী কিংবা সালাদের সঙ্গে লেবু-শসা না থাকলে যেন স্বাদই অসম্পূর্ণ। ফলে রমজানে এবং ঈদ ঘনিয়ে এলে এসব পণ্যের চাহিদা আরও বেড়ে যায়।

খুচরা বিক্রেতা আল-আমিন বলেন, ‘আমরা পাইকারি বাজার থেকে বেশি দামে কিনছি। পরিবহন খরচ, বাজার খরচ মিলিয়ে বাধ্য হয়েই বেশি দামে বিক্রি করছি। আমাদের লাভ আগের মতো নেই।’

তবে একাধিক ক্রেতার অভিযোগ, চাহিদাকে পুঁজি করে কিছু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট তৈরি করছেন।

বীরগঞ্জ পৌরশহরের বাসিন্দা আব্দুল মালেক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘একটা লেবু ৫০ টাকা! এটা কীভাবে সম্ভব? নিম্নবৃত্তের তো ইফতারিতে লেবু রাখা স্বপ্ন হয়ে যাবে।’

গৃহিণী সালমা খাতুন বলেন, ‘রোজার মাসে প্রতিদিনই লেবু, শসা লাগে। কিন্তু এই দামে কিনতে গেলে সংসারের বাজেট এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে। ঈদ আসলেই কেন জানি সব কিছুর দাম বেড়ে যায়।’

বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, মৌসুমি উৎপাদন কমে যাওয়া, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি এবং চাহিদা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার কারণে দাম বাড়ে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, উৎসবকেন্দ্রিক মনস্তাত্ত্বিক চাহিদা বৃদ্ধিও বড় কারণ। মানুষ জানেন, ঈদের সময় এসব পণ্য লাগবেই এই সুযোগে বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়।

বীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমা খাতুন বলেন, ‘নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। ইতোমধ্যে বাজার মনিটরিং জোরদার করা হয়েছে। কেউ কৃত্রিম সংকট তৈরি বা অতিরিক্ত মুনাফা করার চেষ্টা করলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও শিক্ষক আহসান হাবিব বলেন, ‘প্রতি বছরই আমরা একই চিত্র দেখি। ঈদ বা বড় কোনো উৎসব এলেই বাজারে পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ঘটে। এটি শুধু সরবরাহ চাহিদার বিষয় নয়, এর সঙ্গে কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর মানসিকতাও জড়িত। প্রশাসন, ব্যবসায়ী ও ভোক্তা সবার সম্মিলিত উদ্যোগ ছাড়া এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।’

লেবু, শসা ও কাঁচা মরিচের মতো সাধারণ পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করছে। প্রশাসনের তদারকি ও বাজার ব্যবস্থাপনা কতটা কার্যকর হয়, আর ক্রেতারা কবে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারেন সে অপেক্ষায় মানুষ।

জিতু/বীরগঞ্জ/অই

Advertisement
এদিনের সব

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো. সাইদুল ইসলাম সাজু
নির্বাহী সম্পাদক: খন্দকার মোজাম্মেল হক

শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস ২৮/বি, টয়েনলি সার্কুলার রোড, মতিঝিল-১০০০, ঢাকা থেকে মুদ্রিত

যোগাযোগ করুন

টাওয়ার-এ (২য় তলা), হাউস-১৩, রোড-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩।

০২-২২৬৬০৩৩৫২

০১৮৯৭-৬৬৪৬৫৬

ইমেইল : dailyadinbd@gmail.com

আমাদের সোশ্যাল মিডিয়া

facebookyoutubetiktok

© স্বত্ব ২০২৬, দৈনিক এদিন

Design & Developed byBongosoft Ltd.