নাটোরের গুরুদাসপুরে দিনব্যাপী বিভিন্ন সরকারি কার্যক্রম ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসক মোছা. সুমনী আক্তার। বৃহস্পতিবার (ঘটনার দিন) সকাল সাড়ে ১০টায় খুবজিপুর এলাকা থেকে তাঁর এই পরিদর্শন কার্যক্রম শুরু হয়।
দিনব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে তিনি খুবজিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন, ফ্যামিলি সমাবেশে অংশ নেন এবং উপজেলা চত্বরে ইনডোর ব্যাডমিন্টন কোর্ট ও পৌরসভার ঊর্ধ্বমুখী চারতলা ভবন উদ্বোধন করেন। পরে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন জেলা প্রশাসক।
তবে এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে এক অপ্রীতিকর ও চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এসএসসি পরীক্ষায় উপজেলায় সর্বোচ্চ ১১৭৩ নম্বর পাওয়া কৃতি শিক্ষার্থী সুমাইয়া জাহানের নাম মূল সংবর্ধনার তালিকায় ছিল না। তার চেয়ে কম নম্বর পাওয়া আটজন শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনার জন্য নির্বাচিত করা হয়েছিল। বিষয়টি জানাজানি হলে অনুষ্ঠানে চরম অসন্তোষ ও প্রশ্ন ওঠে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে সুমাইয়া জাহান নিজের হতাশা প্রকাশ করে বলেন, সর্বোচ্চ নম্বর পেয়েও তার নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া অত্যন্ত হতাশাজনক। একই বিদ্যালয়ের আরও কৃতি শিক্ষার্থীও তালিকা থেকে বাদ পড়েছে বলে দাবি করেন তিনি। পরে নম্বর ও মেধার সঠিক যাচাই-বাছাই করে প্রকৃত কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেওয়ার দাবি জানান এই মেধাবী শিক্ষার্থী।
বিষয়টি নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গেই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহমিদা আফরোজ তাৎক্ষণিকভাবে সুমাইয়ার নাম তালিকায় যুক্ত করেন এবং পূর্বনির্ধারিত ক্রেস্ট বিতরণ সাময়িকভাবে স্থগিত করেন। এ সময় ইউএনও বলেন, সুমাইয়ার নাম তালিকায় থাকা অত্যন্ত জরুরি ছিল। তিনি উপজেলায় সর্বোচ্চ নম্বর পেয়েছেন। তবে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সঠিক সময়ে মার্কশিট বা আবেদনপত্র সরবরাহ করেননি এবং মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসও বিষয়টি তাদের জানাননি। দ্রুত সঠিক তালিকা তৈরি করে সবাইকে একসঙ্গে সম্মাননা দেওয়া হবে।
এদিকে, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সেলিম আক্তার দাবি করেন যে সুমাইয়ার বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সময়মতো প্রয়োজনীয় তথ্য ও ছবি দেননি। তবে এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে প্রধান শিক্ষক মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, শিক্ষা অফিস থেকে এ বিষয়ে তাঁর কাছে কোনো তালিকা বা তথ্য চাওয়া হয়নি।
এ ঘটনায় জেলা প্রশাসক মোছা. সুমনী আক্তার মিশ্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, ভুল হতেই পারে, তবে শিক্ষার্থীদের প্রচেষ্টা ও আন্তরিকতার যথাযথ মূল্যায়ন করা অত্যন্ত প্রয়োজন। সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়া শিক্ষার্থীর নাম তালিকায় না থাকায় তিনি বিব্রতবোধ করেন। পাশাপাশি তিনি আশ্বস্ত করেন যে, সুমাইয়াসহ সব প্রকৃত কৃতি শিক্ষার্থীকে একসঙ্গে সম্মাননা ক্রেস্ট দেওয়া হবে। পরিশেষে তিনি গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে দ্রুত এই বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানান।
দিনের শেষপর্যায়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সম্মাননা ক্রেস্ট বিতরণ ছাড়াও প্রতিবন্ধীদের মাঝে হুইলচেয়ার এবং সুবিধাবঞ্চিত নারীদের মধ্যে সেলাই মেশিন বিতরণ করা হয়।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









