মায়ের ভরণপোষণ তো দূরের কথা, বয়োবৃদ্ধ মাকে নিজের সাথে রাখতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আত্মহত্যার হুমকি দিয়েছেন পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার এক গ্রামপুলিশ। মায়ের প্রতি একমাত্র সন্তানের এমন অমানবিক আচরণ ও চরম অবহেলার ঘটনা এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
জানা গেছে, পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার নাগডেমরা ইউনিয়ন পরিষদের গ্রামপুলিশ হিসেবে কর্মরত রয়েছেন সাগর। তার অনেক আগেই বাবা মারা গেছেন এবং একমাত্র বোনকে বিয়ে দেওয়া হয়েছে। হার্টের রোগী অসহায় মা এই শেষ বয়সে একমাত্র সন্তান সাগরের সাথে একটু শান্তিতে থেকে নুন-পান্তা খেয়ে বাকি জীবনটা পার করতে চান। কিন্তু মায়ের জন্য সন্তানের মনে এতটুকু মায়া বা অনুশোচনা তো দূরে থাক, উল্টো তাঁর চোখে-মুখে দেখা গেছে গভীর ক্ষোভ।
মায়ের ভরণপোষণ ও সাথে রাখার বিষয়ে শুনানির জন্য সাঁথিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সেলিম আহমেদ গ্রামপুলিশ সাগরকে ডেকে পাঠান। ইউএনও মা'কে সন্তানের সাথে রাখার জন্য তাকে বারবার বোঝানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু সব অনুনয়-বিনয় উপেক্ষা করে সাগরের সাফ জবাব ছিল, “মাকে আমার সাথে দিলে আমি সুইসাইড করব। তাও মাকে সাথে নিতে পারব না। স্যার, আপনি বলে দেন, আমি মাকে মাসে কত টাকা দেবো?”
মায়ের সাথে একমাত্র সন্তানের এমন অমানবিক ও নিষ্ঠুর আচরণ দেখে উপস্থিত সবাই হতবাক হয়ে যান। শুনানির একপর্যায়ে পরিস্থিতি বিবেচনা করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিম আহমেদ সাগরকে বিষয়টির সুরাহা করার জন্য কয়েকদিনের সময় বেঁধে দেন।
এ বিষয়ে সচেতন মহল মনে করছেন, সমাজে আজ চরম সামাজিক অবক্ষয় দেখা দিয়েছে। এই অবক্ষয় থেকে পরিত্রাণ পেতে এবং বৃদ্ধ মায়ের অধিকার নিশ্চিত করতে কেবল প্রশাসনিক পদক্ষেপই যথেষ্ট নয়, সামাজিকভাবে আত্মীয়-স্বজন ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে এর স্থায়ী সমাধান করা প্রয়োজন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









