বরগুনার আমতলী উপজেলার ইউনুস আলী খাঁন ডিগ্রি কলেজের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ার ঘটনায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামীলীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ৬০জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। মামলায় ৩২ জনের নাম উল্লেক করা হলেও ২৮ জনকে অজ্ঞাত আসামী করা হয়েছে। মামলায় আটক ৪ জনকে শনিবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার আমতলী উপজেলার মহিষকাটা ইউনুস আলী খাঁন ডিগ্রি কলেজে একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ ও আনন্দ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। ওই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক জালাল উদ্দীন ফকির, বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব তুহিন মৃধাসহ উপজেলা ও ইউনিয়ন বিএনপির নেতৃবৃন্দ। প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষ হতে না হতেই কয়েকজন নবীন শিক্ষার্থী ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেন। ওই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
এ ঘটনার জেরে শুক্রবার দুপুরে বিএনপির নেতা কর্মীরা গুলিশাখালী ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে অভিযান চালিয়ে কলাগাছিয়া গ্রামের জাহাঙ্গীর চৌকিদারের ছেলে অসিফ আহম্মেদ (২০), পূর্ব চুনাখালী গ্রামের মিজানুর রহমানের ছেলে মো. মাহিদুল ইসলাম (২০), কালিবাড়ি গ্রামের মাহবুব কাজীর ছেলে সাইফুল ইসলাম কাজী (২৩) ও গোছখালী গ্রামের বেল্লাল হাওলাদারের ছেলে ইস্রাফিলকে (২০)কে উপজেলা বিএনপির অফিসে তুলে এনে জিঞ্জাসাবাদ করা হয়। জিঞ্জাসাবাদের পর ওই দিন রাত ৯টার দিকে তাদের চার জনকে আমতলী থানায় সোপর্দ করে। আটক চার জনের মধ্যে আসিফ আহম্মেদ, মাহিদুল ও ইস্রাফিল এর বয়স সতেরোর নীচে। মামলার এক নম্বর আসামী অসিফ গত বছর চুনাখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি মানবিক শাখা থেকে পরীক্ষা দিয়ে অকৃতকার্য হয়েছে। ঘটনার দিন সে কলেজের কোন অনুষ্ঠানে যায়নি বলে দাবী করেন এবং কোন দলের সাথেও সম্পৃক্ত না বলে জানান। তার মা নুপুর বেগম জানান, আমার ছেলে পরীক্ষায় ফেল করার পর পুনরায় পরীক্ষা দেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে এসময় সে গ্রেপ্তার হওয়ায় তার আর পরীক্ষা দেওয়ার বিষয়টি অনিশ্চিত হয়ে পরেছে। ঘটনার দিন তার ছেলে বাড়ি ছিল বলেও সে দাবী করেন।
মামলার চার নম্বর আসামী ইস্রাফিলের মা খুকি বেগম বলেন, আমার ছেলে ঘটনার দিন কলেজে ছিল না ওই দিন সে খাকদান গ্রামে তার নানা বারেক সিকদারের বাড়িতে ছিলেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আটকদের অভিভাবকগন অভিযোগ করে বলেন, বিএনপির নেতা কর্মীরা আমাদের ছেলেদের অফিসে তুলে নিয়ে নির্যাতন করেছে।
মামলার বাদী গুলিশাখালী ইউনিয়ন বিএনপির নেতা মো. রিয়াজুল কবির মুন্সী অভিযোগ করে বলেন, আসামীরা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামীলগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা কর্মী। তারা ক্ষতায় থাকার সময় এলাকায় ব্যাপক ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে ছিল। ঘটনার দিন তারা নবীন বরন অনুষ্ঠানকে পন্ড করার জন্য ধারালো দা, রামদা, হকিস্টিক ও লোহার রড নিয়ে জয়বাংলা স্লোগান দিয়ে কলেজের গেট ভাংচুর করে ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে। আমি এঘটনার বিচার চাই।
ইউনুস আলী খান কলেজের অধ্যক্ষ মো. জাকারিয়া বলেন, আটক চার জনের মধ্যে তিন জন কলেজের ছাত্র। এর মধ্যে তিন নম্বর আসামী সাইফুল ইসলাম কাজী কলেজ শাখা নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক। অন্যরা কোন দলের সাথে জড়িত কিনা আমার জানা নেই।
বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি তুহিন মৃধা বলেন, অনুষ্ঠান শেষের দিকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামীলীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের উশৃঙ্খল নেতা কর্মীরা নবীন বরন অনুষ্ঠানেকে পন্ড করার জন্য এঘটনা ঘটিয়েছে। আমি এঘটনা বিচার চাই।
আমতলী উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. জালাল উদ্দিন ফকির বলেন, ইনুছ আলী খাঁন কলেজের নবীন বরন অনুষ্ঠান পন্ড করার জন্য কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ালীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা কর্মীরা পরিকল্পিত ভাবে অনুষ্ঠানের শেষে জয়বাংলা স্লোগান দিয়েছে। এবং তারা কলেজের গেট ভাংচুর করে ব্যাপক ক্ষতিসাধন করেছে। খবর পেয়ে বিএনপির ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা কর্মীরা ঘটনার সাথে জড়িতদের পরের দিন শুক্রবার আটক করে থানায় সোপর্দ করেছে। আটক চার জন ঘটনার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকারও করেছে। অফিসে ডেকে এনে নির্যাতনের বিষয়টি সঠিক নয় এটি দলের ভাবমূতি ক্ষুন্ন করার অপপ্রয়াস যারা এরক মিথ্যা তথ্য দিয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে তাদের ও বিচার দাবী করছি।
আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ইয়াকুব হোসাইন বলেন, গত বৃহস্পতিবার ইউনুছ আলী খাঁন কলেজে নবীন বরন অনুষ্ঠানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের জয়বাংলা স্লোগান দেওয়ার ঘটনায় ৬০ জনের বিরুদ্ধে শুক্রবার রাতে মামলা করা হয়। এর মধ্যে ৩২ জনের নাম উল্লেখ রয়েছে। অন্য ২৮ জন অজ্ঞাত। আটক চার আসামীকে শনিবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। অন্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্ঠা চলছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









