পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলায় ঢাকের কাঠি, কাঁসরের ঘণ্টা আর শিউলি ফুলের গন্ধে জানান দিচ্ছে শারদীয় দুর্গোৎসবের আগমনী বার্তা। মহালয়ার পর থেকেই চারদিকে এখন উৎসবের আমেজ। পূজা মণ্ডপগুলোতে চলছে সাজসজ্জার ধুম, আর প্রতিমা শিল্পীদের প্রতিমা গড়ার কাজও পৌঁছে গেছে শেষ ধাপে।
মৃৎশিল্পীদের নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় ফুটে উঠছে দেবী দুর্গার এক একটি অপরূপ মৃণ্ময় রূপ। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। উৎসবের দিনক্ষণ যতই এগিয়ে আসছে, মণ্ডপগুলোতে ততই বাড়ছে ব্যস্ততা। ইতোমধ্যে প্রতিমার মাটির কাজ শেষ করে শিল্পীরা এখন নেমেছেন রূপটানের চূড়ান্ত পর্বে। রং ও তুলির নিপুণ আঁচড়ে দেবী দুর্গার অনন্য রূপ ফুটিয়ে তুলতে দিনরাত পার করছেন কারুশিল্পীরা, যা পুরো উপজেলা জুড়ে এক বর্ণিল উৎসবের আবহাওয়া তৈরি করেছে।
পূজা উদযাপন পর্ষদ সূত্রে জানা গেছে, আগামী ১৬ অক্টোবর (শুক্রবার) মহাষষ্ঠী পূজায় দেবীর বোধনের মাধ্যমে এই আনন্দ উৎসবের আনুষ্ঠানিক সূচনা ঘটবে। এরপর টানা ছয় দিনব্যাপী বিভিন্ন ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান শেষে ২১ অক্টোবর (বুধবার) বিজয়া দশমী ও প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে এই উৎসবের সমাপ্তি হবে। এ বছর উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নে সর্বমোট ১৯টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন সম্পন্ন হতে যাচ্ছে। ইউনিয়নভিত্তিক মণ্ডপের পরিসংখ্যানে জানা যায়— মাধবখালীতে ১টি, মির্জাগঞ্জে ২টি, আমড়াগাছিয়ায় ১টি, দেউলী সুবিদখালীতে ৪টি, কাকড়াবুনিয়ায় ৭টি এবং মজিদবাড়িয়ায় ৪টি মণ্ডপ প্রস্তুত করা হচ্ছে।
উপজেলার কেন্দ্রীয় ও প্রধান পূজা মণ্ডপ হিসেবে পরিচিত, সুবিদখালী বাজার সর্বজনীন শ্রী শ্রী দুর্গা মন্দির কমপ্লেক্সে এখন উৎসবের মূল আকর্ষণ তৈরি হয়েছে। প্রখ্যাত প্রতিমাশিল্পী শ্রী প্রসীত মণ্ডল এবং তাঁর সহকারীরা বাঁশ, খড় ও মাটির সুক্ষ্ম কাজ শেষ করার পর এখন দেবীর অবয়ব সজীব করতে রং-তুলির নিখুঁত কারুকার্যে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। দেবী দুর্গা, মহিষাসুর, লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক ও গণেশের মূর্তিতে রঙের পরশ লাগার এই আকর্ষণীয় দৃশ্য দেখতে প্রতিদিন আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে অসংখ্য দর্শনার্থী ও ভক্তরা মন্দির প্রাঙ্গণে এসে ভিড় জমাচ্ছেন। আয়োজকেরা আশা করছেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই সম্পূর্ণ নান্দনিকভাবে প্রতিমা সাজানোর কাজ শেষ হবে।
উৎসবকে সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর করতে মণ্ডপগুলোর সাজসজ্জা, আলোকসজ্জা এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজও দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। মির্জাগঞ্জ উপজেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের আহ্বায়ক বাবুল কর্মকার কালু জানান, "একটি সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ উৎসব উপহার দিতে আমরা প্রতিটি পূজা কমিটির সাথে সার্বক্ষণিক সমন্বয় রক্ষা করছি। স্থানীয় সাধারণ মানুষ এবং প্রশাসনের সহযোগিতায় এবারও অত্যন্ত আনন্দঘন পরিবেশে পূজা সম্পন্ন হবে বলে আমরা আশাবাদী।"
এদিকে উৎসবের সার্বিক নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থান নিয়েছে প্রশাসন। মির্জাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ মো. রাসেল বলেন, "শারদীয় দুর্গোৎসব যাতে সম্পূর্ণ নিরাপদ এবং সম্প্রীতিময় পরিবেশে উদযাপিত হতে পারে, সেজন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সকল স্তরের মানুষের দায়িত্বশীল ভূমিকা ও ধর্মীয় সৌহার্দ্যের মধ্য দিয়ে মির্জাগঞ্জে একটি দৃষ্টিনন্দন উৎসব সম্পন্ন হবে।"


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









