বয়স ৬২ বছর। এই বয়সে যেখানে একটু বিশ্রাম আর স্বস্তিতে দিন কাটানোর কথা, সেখানে জীবিকার তাগিদে নিজেকেই টানতে হতো সরিষা ভাঙানোর ঘানি। অভাবের কারণে একটি বলদ কেনার সামর্থ্য না থাকায় স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে কঠোর পরিশ্রম করে সংসার চালাতেন শ্রী সম্ভু সাহা। তার এই কষ্টের জীবনের কথা গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর পাশে দাঁড়িয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন। জীবিকার অবলম্বন হিসেবে সম্ভু সাহার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে একটি গরু।
শিবগঞ্জ উপজেলার হাজার বিঘী গ্রামের বাসিন্দা সম্ভু সাহা দীর্ঘদিন ধরে সরিষা পিষে তেল উৎপাদন ও বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। আর্থিক সংকটের কারণে ঘানি টানার জন্য একটি বলদ কিনতে পারেননি তিনি। ফলে বয়সের ভার উপেক্ষা করে নিজেকেই ঘানি টেনে সরিষা পিষতে হতো তাকে। প্রতিদিনের এই পরিশ্রমই ছিল তার সংসার চালানোর একমাত্র অবলম্বন।
সম্ভু সাহার এমন দুর্দশার চিত্র বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে বিষয়টি নজরে আসে শিবগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের। এরপর তার পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়।
রবিবার (১১ অক্টোবর) বিকেলে শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাজহারুল ইসলাম সম্ভু সাহার বাড়ি ও ঘানির কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। এ সময় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ নিজামুল হক রানা, ইউপি সদস্য এবং স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। তাদের উপস্থিতিতে সম্ভু সাহার হাতে একটি গরু তুলে দেওয়া হয়।
গরু পেয়ে সম্ভু সাহা ও তার পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আনন্দের সঞ্চার হয়। এ উদ্যোগের জন্য উপজেলা প্রশাসন ও সংবাদ প্রচারে সহযোগিতাকারী গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তাঁরা।
উপজেলা প্রশাসনের এ উদ্যোগে সম্ভু সাহার দীর্ঘদিনের কষ্ট কিছুটা হলেও লাঘব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। গরুটি ঘানি টানার কাজে ব্যবহার করতে পারলে তার শারীরিক পরিশ্রম কমবে, পাশাপাশি জীবিকা নির্বাহও সহজ হবে।
সম্ভু সাহার জীবনের এই ঘটনা আবারও দেখিয়ে দিল, মানুষের দুর্দশার কথা গণমাধ্যমে তুলে ধরা হলে তা সহায়তার পথ তৈরি করতে পারে। একটি গরু হয়তো তার জীবনের সব সংকট দূর করবে না, তবে এই সহায়তা তার দীর্ঘদিনের কষ্টের জীবনে স্বস্তির নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









