দুই মাস আগে ছুটিতে দেশে এসেছিলেন শাহেদ আহমেদ (৩২)। স্বজনদের সঙ্গে কাটিয়েছিলেন আনন্দের কিছু মুহূর্ত। শুক্রবার কর্মস্থলে ফিরতে সৌদি আরবের উদ্দেশে দেশ ছাড়েন। কিন্তু সেই যাত্রাই যে শেষ যাত্রা হবে, তা ভাবেননি কেউ। সৌদি আরবের রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুথি বিদ্রোহীদের হামলায় শাহেদের মৃত্যুর খবর এসেছে দেশে। স্বজন হারানোর বেদনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে পরিবারে। স্বামীকে হারিয়ে ভেঙে পড়েছেন স্ত্রী কাকলি আক্তার।
রবিবার (১১ অক্টোবর) বিকেল পাঁচটার দিকে বগুড়ার মাদলা মণ্ডলপাড়ার বাড়িতে শাহেদের মৃত্যুর খবর পৌঁছায়। খবরটি নিশ্চিত করেছেন শাজাহানপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশিক ইকবাল।
শাহেদ বগুড়া মহানগরীর ২১ নম্বর ওয়ার্ডের রফিকুল ইসলাম মিঠুর ছেলে। তিন বছর ধরে সৌদি আরবে কর্মরত ছিলেন।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, শাহেদের বাবা রফিকুল ইসলাম মিঠু প্রায় ২০ বছর ধরে সৌদি আরবে থাকেন। বাবার সুবাদে তিন বছর আগে সৌদি আরবে যান শাহেদ। দুই মাস আগে ছুটিতে দেশে এসে শুক্রবার আবার কর্মস্থলে ফিরছিলেন। তার মা তিন মাস আগে ওমরাহ পালনের জন্য সৌদি আরবে যান।
আগামী ১৪ অক্টোবর তার দেশে ফেরার কথা রয়েছে। বর্তমানে শাহেদের মা-বাবা দাম্মামে অবস্থান করছেন। শাহেদের বোনজামাই সাজু বলেন, তার শ্বশুরের সঙ্গে কথা হয়েছে। তবে তারা এখনো রিয়াদে যেতে পারেননি।
স্বামীকে হারিয়ে শোকে ভেঙে পড়েছেন কাকলি আক্তার। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, “শনিবার বাংলাদেশ সময় বিকেল পাঁচটার দিকেও তার সঙ্গে শেষ কথা হয়েছিল। এরপর আর কথা হয়নি। সরকারের কাছে আমার চাওয়া, আমার স্বামীকে ফেরত এনে দিক।”
মাদলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান জানান, শাহেদের বাড়ি তার পাশের এলাকায়। খবর পেয়ে তিনি সেখানে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেছেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









